
দেশচিন্তা ডেস্ক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, একজন রোগীর দ্রুত ও টেকসই সুস্থতায় নার্সদের পেশাগত দক্ষতা, মানবিক আচরণ ও মানসিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের বেডে রোগীর পাশে ২৪ ঘণ্টা যিনি থাকেন, তিনি নার্স—এ কারণে নার্সিং সেক্টরের মানোন্নয়নে সরকারকে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।
বুধবার চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-এর সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী নার্সিং বিষয়ক ওয়ার্কশপ অন শিক্ষাপদ্ধতি এবং মূল্যায়ন (Workshop on Teaching Methodology & Assessment) শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত নার্সিং শিক্ষা বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ নার্সদের ব্যাপক চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেরালা, ব্যাঙ্গালুরু, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের মতো অঞ্চলের নার্সরা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত—কারণ তারা উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আমাদের নার্সদের মধ্যেও সেই প্রতিভা রয়েছে; প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা।
তিনি চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, এ উদ্যোগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
জনস্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সুপারিশ অনুযায়ী ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ (UHC) অর্জনে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয় জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। এতে চিকিৎসা ও নার্সিং খাতে গুণগত পরিবর্তন আসবে।
নার্সদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, রোগী হাসপাতালে এলে প্রথম যোগাযোগ হয় নার্সদের সঙ্গে। তাই রোগীর সামনে সবসময় হাস্যোজ্জ্বল ও সহানুভূতিশীল থাকা জরুরি। একটি মিষ্টি হাসি, আশ্বাসমূলক কথা ও আন্তরিক গ্রহণ—রোগীর অর্ধেক মানসিক যন্ত্রণা কমাতে পারে। ওষুধ প্রদানের পাশাপাশি ওষুধের উদ্দেশ্য, গুরুত্ব ও সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোগী ও স্বজনদের বুঝিয়ে বলা নার্সদের দায়িত্ব।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফের সভাপতিত্বে সমাপনী দিনে কর্মশালায় মূখ্য আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নার্সিং অনুষদের ডিন ডা. মেহেরুন্নিছা খানম ও রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. আফরোজা হক, সহযোগী অধ্যাপক, মেডিকেল এডুকেশন, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও বিএমডিসি এর সদস্য ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ডা. তমিজউদ্দিন মানিক, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়ন্স ও প্যারা ক্লিনিক্যাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. অজয় দেব, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. সুলতানা রুমা আলম।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিআইটিআইডি’র অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ, ডা. এস এম সারোয়ার আলমসহ বিভিন্ন নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ডা. ময়নাল হোসেন, সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আলাউদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য যে ০৩ দিনব্যাপী কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল এর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর তালুকদার, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মেহেরুন্নিছা খানম, সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশনের সহকারি অধ্যাপক ডা. থানাদার তামজিদা তাপু ও ডা.আফরোজা হক, সহযোগী অধ্যাপক, মেডিকেল এডুকেশন, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ।
বাংলাদেশে এই প্রথম চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ নার্সিং পেশার শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হলো।










