আজ : সোমবার ║ ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : সোমবার ║ ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

খামেনির ওপর হামলা ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের’ শামিল হবে, ইরানের হুঁশিয়ারি

দেশচিন্তা ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

স্থানীয় সময় রোববার (১৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেয়া বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর যেকোনো হামলা ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’।

একই সঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, গত দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পেছনেও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও শত্রুতার বড় ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, ইরানিদের জীবনে বর্তমানে যে আর্থিক কষ্ট এবং দুরবস্থা দেখা যাচ্ছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো মার্কিন সরকার ও তাদের মিত্রদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা এবং অমানবিক নিষেধাজ্ঞা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের অবসানের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে’।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে খামেনির একাধিক এক্স পোস্ট পড়ে শোনানো হয়, যেখানে ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করা হয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, দমন-পীড়ন ও সহিংসতার ওপর নির্ভর করে ইরানি শাসকরা টিকে আছে। একটি দেশের নেতা হিসেবে তিনি (খামেনি) যে অপরাধ করেছেন, তা হলো পুরো দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া এবং আগে কখনো না দেখা মাত্রায় সহিংসতা ব্যবহার করা। দেশ পরিচালনার দিকে মনোযোগ দেয়ার বদলে তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকতে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করছেন।

ইরানে ডিসেম্বরের শেষ দিকে মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার দরপতন ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। চলমান এই বিক্ষোভে ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। নেটব্লকস জানায়, রোববার কিছু অনলাইন সেবায় আংশিক প্রবেশাধিকার ফিরেছে।

এদিকে, ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। ইরানের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভে সবচেয়ে বড় সংঘাতের কিছু ঘটনা ঘটেছে উত্তর-পশ্চিম ইরানের কুর্দিশ অঞ্চলে। সেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

‘ইসরাইল ও বিদেশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর’ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করেছে এবং অস্ত্র দিয়েছে বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। এর আগে, শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেন। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেন তিনি।

এরমধ্যেই মার্কিন নিউজ ওয়েবইট অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গেল সপ্তাহে ইরানে হামলার জন্য ডনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ছিলেন মার্কিন সেনারা। তবে, ইসরাইল ও আরব মিত্রদের চাপের মুখে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন ট্রাম্প।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ