
দেশচিন্তা ডেস্ক: পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পথে হাঁটার চেষ্টা করলে তার দায়ভার বিএনপিকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম এখন সজাগ রয়েছে—জুলাইকে বিনষ্ট করার কোনো চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীতে এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার এসব বলেন। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উলামা বিভাগের উদ্যোগে আলেম-উলামা, ইমাম ও খতিবদের সম্মানে এই আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জুলাই সনদ ও গণভোটকে অবৈধ ঘোষণার চেষ্টা করছে সরকারি দল। তিনি বলেন, নির্বাচনে ফলাফল কারচুপির রহস্য ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, দেশি-বিদেশি শক্তির মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আলেম সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রকৃত মুমিন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গঠনে আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতীতেও আলেম সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, দ্বীন কায়েমের আবশ্যকতা, সালাত ও সিয়ামের তাৎপর্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করা জরুরি।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, রমজান মাস কুরআন নাজিলের মাস এবং দ্বীনের বিজয়ের মাস। ব্যক্তি জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় কুরআনের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষ মর্যাদার সঙ্গে পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকতে পারবে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগের সেক্রেটারি ড. খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, বিভেদ ভুলে সব ধারার আলেম-উলামাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দর সমাজ গঠনে কাজ করতে হবে।
ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মাওলানা আবু তাহের জেহাদী বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আলেমদের উম্মাহর রাহবার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও উলামা বিভাগের সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারফ হোসাইন। সঞ্চালক ছিলেন উলামা বিভাগের সেক্রেটারি মুফতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও শায়খ রফিকুল ইসলাম মিয়াজী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমিরে শরীয়ত মাওলানা আবু জাফর কাসেমী এবং নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমীসহ বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের নেতারা।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন অধ্যক্ষ মাওলানা শহীদুল্লাহ, মুফতি মিজানুর রহমান, মুফাসসির আবুল কাসেম গাজী, উপাধ্যক্ষ আ ন ম হেলাল উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল মোমেন নাছেরী, মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, অধ্যক্ষ মাওলানা লোকমান হোসাইন, শাহজাহানপুর থানা আমীর মাওলানা শরিফুল ইসলাম, ব্যারিস্টার শরফুদ্দিন তামজিদ, ড. মহিউদ্দিন আহমাদ, হাফেজ জাহিদুল ইসলাম, শায়খ মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা নিজাম উদ্দিনসহ অনেকে।










