আজ : শুক্রবার ║ ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : শুক্রবার ║ ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে ইরান: হোয়াইট হাউস

দেশচিন্তা ডেস্ক: বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেফতার ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করেছে ইরান। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এমনটা দাবি করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং উপসাগরীয় মিত্রদের চাপে ইরান এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান লেভিট।

লেভিট বলেন, ইরান সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যেদিন ওই বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তার আগেই দণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তবে এ নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি ইরান।

এদিকে ইরানে টানা কয়েকদিনের তীব্র বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নেমেছে কিছুটা নীরবতা। সহিংস আন্দোলনের শৈথিল্যের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি হুমকি আর হুঁশিয়ারি চলছে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে।

নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হলে সামরিক পদক্ষেপসহ সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি জানান, কোনো যে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত তেহরান।

এরই মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও মিসর ঠেকিয়েছে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, এই উপসাগরীয় দেশগুলোর জোরালো অনুরোধ ও মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত তেহরানে হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বছরের পর বছর অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে।

জাতীয় মুদ্রার এই চরম দুরবস্থার প্রভাবে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে মারাত্মক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।

কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের অধিকাংশ শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে অনেক এলাকাতেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির।

বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধসহ কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীকেও মাঠে নামানো হয়েছে।

পশ্চিমা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের ৩১টি প্রদেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে তেহরান কঠোর অভিযান চালিয়েছে এবং এতে নিহতের সংখ্যা ৫০০ থেকে ২ হাজারের মধ্যে হতে পারে।

এদিকে আন্দোলনের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরানে সরাসরি মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা আপাতত কম।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ