আজ : মঙ্গলবার ║ ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : মঙ্গলবার ║ ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ২৮শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল

দেশচিন্তা ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। অপরাধ, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগকে ভিসা বাতিলের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও ভিসানীতিতে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রেখেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ধারাবাহিক যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও হাজারো মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়।

দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া, ভিসার শর্ত না মানা, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকির বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ভিসা বাতিলের উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধও রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর কয়েকটি গুরুতর অপরাধের ঘটনাও তুলে ধরেছে। এর মধ্যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন, অপহরণ ও মানব পাচার এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০টির বেশি ভিসা বাতিল করেছে। এসব ভিসাধারী বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, যাতে সন্তান দেশটির নাগরিকত্ব পেতে পারে। এ ধরনের ভ্রমণকে সাধারণভাবে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়।

চার্লি কার্ক হত্যার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরের বিবৃতিতে তাঁদের কিছু মন্তব্যের উল্লেখ করা হয়েছে। চার্লি কার্ক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন পরিচিত রক্ষণশীল রাজনৈতিক অধিকারকর্মী।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসাধারীরা তাঁদের ভিসার শর্ত মেনে চলছেন কি না এবং তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করছেন কি না, তা যাচাই করতে নিয়মিত পর্যালোচনা চালানো হচ্ছে।

দপ্তরের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কোনো অধিকার নয়; এটি একটি সুযোগ। এই সুযোগের অপব্যবহার করলে ভিসা বাতিল করতে বিদ্যমান আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।

গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। সেটি ছিল ভিসা বাতিলের রেকর্ডসংখ্যা। পরবর্তী সময়ে সেই সংখ্যা আরও বেড়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই জোরদার করেছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যাচাইয়ের আওতা বাড়ানো হয়েছে।

তবে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে অধিকারকর্মী ও মানবাধিকারবিশেষজ্ঞদের সমালোচনা রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিদেশি নাগরিকদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ