আজ : বুধবার ║ ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : বুধবার ║ ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা সেশন অনুষ্ঠিত

দেশচিন্তা ডেস্ক: প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে ‘ইপসা-শিখা’ প্রকল্পের আওতায় এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির কমপ্লেইন্ট কমিটির সহযোগিতায় ১৮ জুলাই ২০২৬, শনিবার, বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধে চতুর্থ সচেতনতামূলক সেশন অনুষ্ঠিত হয়|
ব্র্যাক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘ইপসা-শিখা’ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন, কমিউনিটি এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, যৌন হয়রানি ও বুলিং প্রতিরোধে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা|
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি এবং ইপসার মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর আওতায় ইপসা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে| এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক উদ্যোগ| এমওইউ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে একটি ইনসেপশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইপসা জানায় যে তারা কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপ্লেইন্ট কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে| প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য ধারাবাহিকভাবে সচেতনতা সেশনের আয়োজন করা হচ্ছে|
এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৮ জুলাই ২০২৬, জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য চতুর্থ সচেতনতা সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়| সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ, সমাজতত্ত্ব ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগ এবং পাবলিক হেলথ বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন| অনুষ্ঠানে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির কমপ্লেইন্ট কমিটির সদস্য ও সহযোগী অধ্যাপক গাজী শাহাদাৎ হোসেন উপস্থিত ছিলেন|
সেশনটি পরিচালনা করেন ‘ইপসা-শিখা’ প্রকল্পের ম্যানেজার তুষার কুমার রায়| তিনি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম ও লক্ষ্য তুলে ধরেন| তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে প্রকল্পটি লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ এবং জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইতিবাচক ও গুণগত পরিবর্তন আনতে কাজ করছে|
তুষার কুমার রায় বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, সচেতনতামূলক কার্যক্রমের বিস্তার এবং কার্যকর কাউন্সেলিং ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সচেতনতা সেশন অংশগ্রহণকারীদের আচরণগত দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন, সমস্যার যথাযথ প্রতিক্রিয়া এবং রিপোর্টিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করে| একই সঙ্গে তিনি জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধে ছাত্র-ছাত্রীদের করণীয় ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন|
সেশনে আরও বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক প্রতিনিধি জনাব রাশেদুল ইসলাম, এসোসিয়েট ফিল্ড অফিসার মিশকাত হোসাইন এবং ট্রেনিং ও ক্যাম্পেইন অফিসার মোঃ রাশেদ| তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন|
কমপ্লেইন্ট কমিটির সদস্য ও সহযোগী অধ্যাপক গাজী শাহাদাৎ হোসেন তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে|
সেশনের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ে তাদের মূল্যবান চিন্তা ও মতামত প্রকাশ করেন| এছাড়াও তাদের এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বক্তারা|

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ