আজ : ║ ║║

চবিতে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ও আহমদ ছফার সাহিত্যবিষয়ক দিনব্যাপী যৌথ সেমিনার অনুষ্ঠিত

দেশচিন্তা ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে “সাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ও আহমদ ছফার সাহিত্য বিষয়ক দিনব্যাপী সেমিনার” মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) বাংলা বিভাগের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১০টায় উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. ইকবাল শাহীন খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকে বাংলা সাহিত্যের দুজন নক্ষত্র সম্পর্কে আলোচনা হবে। আহমদ ছফা ৩ দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা সাহিত্যে বিচরণ করেছেন কাজ করেছেন। তাঁর লেখা গাভী বিত্তান্ত বইটি অনবদ্য ও কালজয়ী। বাংলা সাহিত্যে সমৃদ্ধ ভাষা ব্যবহার করেছেন আহমদ ছফা। এছাড়া সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যে দারুণ অবদান রেখেছেন। তাঁর লেখা লালসালু কুসংস্কার এবং গ্রামীণ সমাজের শোষণ নিয়ে রচিত একটি বাস্তবধর্মী সামাজিক উপন্যাস। মাননীয় উপাচার্য সেমিনারের সফলতা কামনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, সেমিনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ও আহমদ ছফা দুজন প্রথিতযশা লেখক। আহমদ ছফা অনেক শক্ত কথা সুন্দর সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করতে পারতেন। তিনি লেখার মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাসকে নাড়া দিতে পারতেন। আর সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সমাজ পরিবর্তনে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লিখেছেন। মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলা সাহিত্যের দুজন নক্ষত্র হচ্ছেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ও আহমদ ছফা। সমাজের নানা সমস্যা ও কুসংস্কার নিয়ে ওয়ালীউল্লাহ্ লিখেছেন। যদ্যপি আমার গুরু বইয়ে তৎকালীন রাজনৈতিক সমাজ নিয়ে লিখেছেন। এছাড়া বাংলা সাহিত্য অসাধারণ অবদান রয়েছে আহমদ ছফার।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা বাংলা একাডেমির বিশিষ্ট অনুবাদক মোজাফফর হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. শারমিন মুস্তারী এবং পুরো অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ।

উদ্বোধন শেষে সকাল ১০:৩০টা থেকে দুপুর ১২:৩০টা পর্যন্ত সেমিনারের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনের মূল বিষয় ছিল “মিখাইল বাখতিনের আলোকে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্”। অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের প্রফেসর (পিআরএল) ড. মোহাম্মদ মহীবুল আজিজ। পঠিত প্রবন্ধের ওপর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গোলাম মাওলা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শেখ সাদী এবং প্রফেসর ড. মাখন চন্দ্র রায়।

দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত “আহমদ ছফার ‘পুষ্প, বৃক্ষ ও বিহঙ্গ পুরাণ’: প্রকৃতি ও মানুষের আন্তঃসম্পর্কের বয়ান” শীর্ষক দ্বিতীয় অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে মূল প্রাবন্ধিক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. আলম চৌধুরী। প্রবন্ধের ওপর বিশদ আলোচনা করেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, কবি ও নাট্যকার অভীক ওসমান এবং চবি বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী।

অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

আজকের সর্বশেষ সংবাদ