
দেশচিন্তা ডেস্ক: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ অবসানের নতুন উদ্যোগ হিসেবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্টকে লেখা এক খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।’
জেলেনস্কি প্রস্তাবিত আলোচনার পুরো সময়জুড়ে পূর্ণ যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানান। তবে বৃহস্পতিবারের (৪ জুন) আগেই পুতিন এমন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, দুই নেতার সাক্ষাৎ হলে তা ‘দারুণ’ হবে বলে তিনি মনে করেন। ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে যে তারা চিঠিটি পেয়েছে এবং পুতিনকে এ বিষয়ে অবহিত করা হবে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, চিঠির ভাষা ছিল কিছুটা বিদ্রূপাত্মক। এতে সম্প্রতি রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বয়সের প্রভাব এখন পুতিনের ওপর পড়তে শুরু করেছে।’
চিঠিতে তিনি সরাসরি আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘ইউক্রেন প্রস্তাব করছে, আমাদের এবং আপনার (পুতিন) মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো হোক। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব দিচ্ছি।’
তবে ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব এবারই প্রথম নয়। তখন ক্রেমলিনের জবাব ছিল, জেলেনস্কি চাইলে মস্কোতে এসে পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।
তবে চিঠিতে কিয়েভ প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে ‘যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পুরোপুরি ইরান ইস্যুতে মনোযোগী’। জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘ইউরোপের যুদ্ধ আবারও তাদের মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ঠিক হবে না।’
সেন্ট পিটার্সবার্গে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, চিঠির বিষয়বস্তু না দেখেই পুতিন বলেন, ‘তিনি নিশ্চিতভাবেই ইউক্রেনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত ও আগ্রহী’, তবে এজন্য উভয়পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে।
পুতিন ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প যখন ইরান নিয়ে ব্যস্ত, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন জেলেনস্কিকে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার জন্য রাজি করাতে পারে।
পুতিনের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ইউক্রেনকে রাশিয়ার আংশিক দখলে থাকা চারটি অঞ্চল- ডোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া থেকে সরে যেতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টাও ত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে ইউক্রেন কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি নয়। তাদের যুক্তি, এতে রাশিয়া আরও উৎসাহিত হবে এবং ভবিষ্যতে আবারও আক্রমণ চালাতে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। জেনেভা, আবুধাবি ও ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আগের শান্তি আলোচনা কোনো ফল দেয়নি। ১,৮০০ শব্দেরও বেশি দীর্ঘ চিঠিতে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘আপনার যুদ্ধ আমাদের দেশের ওপর যা নিয়ে এসেছে, তার পর আমরা ইউক্রেনীয়রা রুশ সেনাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। কিন্তু আমি ইউক্রেনীয়দের নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের মানুষ হারাচ্ছি এবং প্রতিটি ক্ষতিই আমাদের জন্য বেদনাদায়ক।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জ্বালানির ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার জনগণও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।’ জেলেনস্কি পুতিনকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ বেছে নিতে ভয় পাবেন না। এখন আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেটিই।’
তিনি পুনরায় বলেন, ‘আমাদের এবং আপনার মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই’ যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রস্তাব দিচ্ছে ইউক্রেন।
জেলেনস্কির মতে, সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো দেশে মুখোমুখি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি ইভানোভিচ সিবিহা বলেন, ‘এই খোলা চিঠি যুদ্ধ অবসানের জন্য একটি গুরুতর ও অর্থবহ প্রস্তাব। আমরা এই প্রস্তাবের একটি অর্থবহ জবাব প্রত্যাশা করছি। যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে। শান্তি বেছে নেওয়ার সময় এসেছে।’


















