আজ : বৃহস্পতিবার ║ ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : বৃহস্পতিবার ║ ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

যোগ করা সময়ে সাগরিকার গোল, নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

দেশচিন্তা ডেস্ক: ম্যাচের শুরু থেকে দুই বারের চ্যাম্পিয়নদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল নেপাল। লিডও পেয়েছিল তারা। তবে শেষ হাসিটা হেসেছে বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণা চাকমার অলিম্পিক গোলে সমতায় ফেরার পর যোগ করা সময়ে সাগরিকার গোলে জয় তুলে নেয় লাল সবুজরা।

তাতে বুধবার (৩ জুন) সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনাল নিশ্চিত করলো পিটার বাটলারের শিষ্যরা।

এদিন হ্যাট্রিক শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে ভারতের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে নেপালের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি বাটলারের শিষ্যদের। প্রথম থেকেই তাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে থাকে গত তিন আসরের রানার্সআপরা। পুরো ম্যাচে বল দখল, আক্রমণ কিংবা অন টার্গেট শট; সব দিকেই এগিয়ে ছিল নেপাল। তবে ভাগ্য ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। অবশ্য জয়ের কৃতিত্ব কোনো অংশেই কম নয় ঋতুপর্ণা এবং শামসুন্নাহার-সাগরিকা জুটির।

এদিন শুরু থেকে আক্রমণে আধিপত্য দেখানো নেপালেরসাফল্য পেতেও খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। ২৩তম মিনিটেই কর্নার থেকে সেটপিস গোলে এগিয়ে যায় নেপাল। সতীর্থের ক্রস বক্সে পেয়ে বাংলাদেশের রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ান গীতা রানা।পরের মিনিটেই সমতায় ফিরতে পারতো বাংলাদেশ। তবে ঋতুপর্না চাকমার ক্রস বক্সে লাল সবুজদের কেউ কাজে লাগাতে পারেনি। এরপর ম্যাচে ফিরতে একের পর এক প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় বাটলারের শিষ্যরা। শেষমেশ প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঋতুপর্নার চোখ ধাঁধানো অলিম্পিক গোলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। বাঁ কর্নার থেকে তার ক্রস নেপাল গোলরক্ষককে পরাস্ত করে সরাসরি জালে জড়ায়। তাতে সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
ভাগ্য সহায় হওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বিপদ থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ৪৭তম মিনিটে বক্সে ওয়ান অন ওয়ান পজিশনে বল পেয়ে রেখা পাউডেল শট নিলেও সেটি বারের কোণায় লেগে বেরিয়ে যায়।৫৪তম মিনিটে লিডে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে দ্রুতগতিতে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে নেয়া শামসুন্নাহারের শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। এক মিনিট পর নেপাল গোলরক্ষকের নৈপুণ্য বক্সে ঋতুপর্নার পাস কাজে লাগাতে পারেননি শামসুন্নাহাররা। ৫৯তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ক্রস হেডে ক্লিয়ার করে বাংলাদেশকে বিপদমুক্ত করেন আফঈদা। ১০ মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে নেপালের সারু লিম্বুর বিপজ্জনক শট বারের সামান্য উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।

৭৮তম মিনিটে বাংলাদেশকে লিড এনে দিতে সাগরিকার নেয়া শট লাফিয়ে ঠেকিয়ে দেন নেপালের গোলরক্ষক। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে লিডের সুযোগ তৈরি হয়েছিল নেপালের সামনে। তবে কোহাতি কিসকুর নৈপুণ্যে গোল হজম থেকে রক্ষা পায় লাল সবুজরা। উল্টো সুযোগ লুফে নেয় লাল সবুজরা। যোগ করার সময়ের চতুর্থ মিনিটে সতীর্থের পাস দখলে নিয়ে বক্সে ঢুকে পাস দেন শামসুন্নাহার। আলতো ছোঁয়ায় জালে জড়িয়ে বাংলাদেশকে জয়সূচক গোলটি এনে দেন সাগরিকা। তাতে ফাইনাল নিশ্চিত করে লাল সবুজরা।

২০২২ ও ২০২৪ সালের পর টানা তৃতীয়বার দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মিশনে বাংলাদেশ। এবার শিরোপা জিতলে হ্যাট্রিক করবে ঋতুপর্ণারা।

আগামী ৫ জুন জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ফাইনাল অনুষ্ঠিত। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতু ও ভুটানের মধ্যকার জয়ী দল মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ