আজ : শুক্রবার ║ ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : শুক্রবার ║ ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের কোচ আনচেলত্তি

দেশচিন্তা ডেস্ক: ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে কার্লো আনচেলত্তির ওপরই দীর্ঘমেয়াদী আস্থা রাখছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সিবিএফ নিশ্চিত করেছে যে, ৬৬ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ডের সাথে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

২০২৫ সালে সেলেসাওদের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তির অধীনেই আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে মাঠে নামবে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের শিরোপা এবং কোচ হিসেবে পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা আনচেলত্তি ড্রেসিংরুমের পরিবেশ শান্ত রাখার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে ব্রাজিলের ডাগআউটে এক বছর কাটানোর পর তিনি উপলব্ধি করেছেন, এই দায়িত্বটি ক্লাব ফুটবলের চেয়ে একদম আলাদা। এখানে কোচের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরো দেশ এক উন্মাদনায় মেতে থাকে।

গত মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি চুক্তি নবায়নের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, “সবকিছু চূড়ান্ত, শুধু স্বাক্ষর করা বাকি। আমি এখানে থেকে যেতে চাই।” এর ঠিক দুদিন পরই সিবিএফ চার বছরের এই বর্ধিত চুক্তির খবরটি সামনে আনে।

সিবিএফ তাদের বিবৃতিতে জানায়, “বিশ্ব ফুটবলের সফলতম দলের প্রধান হিসেবে আনচেলত্তির মেয়াদ বৃদ্ধি শুধু ফেডারেশনের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ২০২৫ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মাঝে তিনি যে বিশ্বাস তৈরি করেছেন, তারই প্রতিফলন।” চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কারণ হিসেবে আনচেলত্তি বলেন, “আমি এই দলটির মাঝে ভবিষ্যৎ বড় সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের একঝাঁক বিশ্বমানের তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে যারা পরবর্তী প্রজন্মের কাণ্ডারি হবে।”

তবে বিশ্বকাপ সামনে রেখে আনচেলত্তির জন্য সামনের পথটা মোটেও সহজ নয়। রদ্রিগো, এস্তেভাও এবং এদের মিলিতাওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকায় আগামী সোমবার রিও ডি জেনিরোতে দল ঘোষণার আগে বেশ মানসিক চাপে রয়েছেন তিনি। এর ওপর নেইমারের দলে থাকা না-থাকা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে টানটান উত্তেজনা। ২৬ জনের দল থেকে পরিচিত ও প্রিয় মুখগুলোকে বাদ দেওয়ার কষ্ট তাকে ভাবিয়ে তুলেছে। আনচেলত্তি বলেন, “পেশার খাতিরে যখন ব্যক্তিগতভাবে পছন্দের কোনো খেলোয়াড়কে বাদ দিতে হয়, তখন সেটা আমাকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।”

এবারের বিশ্বকাপে স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের পাশাপাশি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে অন্যতম ফেভারিট ধরা হচ্ছে। গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। ২০০২ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে আনচেলত্তি চান দলে এমন একটি শান্ত ও বিনয়ী পরিবেশ তৈরি করতে, যাতে খেলোয়াড়রা চাপের কাছে ভেঙে না পড়ে বরং তা জয় করে মাঠের সেরাটা দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আনচেলত্তির হাত ধরে হেক্সা মিশনের পথে ব্রাজিল কতদূর যেতে পারে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ