আজ : বৃহস্পতিবার ║ ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : বৃহস্পতিবার ║ ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শান্তর সেঞ্চুরি আর লিটনের হাফ সেঞ্চুরির পরও ২৬৫ রানে থামল বাংলাদেশ

দেশচিন্তা ডেস্ক: বল হাতে রুদ্রমূর্তি উইল ও’রুর্কি। প্রথম ১৩ বলেই বিদায় দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমের। ওয়ান ডাউনে নামা সৌম্য সরকারও ও’রুর্কির শিকার। মাত্র ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে টাইগাররা। এখান থেকেই লড়াইয়ের শুরু নাজমুল হোসেন শান্ত-লিটন দাসের। ব্যাট হাতে ফিরিয়ে আনলেন ৯ বছর আগে কার্ডিফের স্মৃতি। শান্ত-লিটনের ওপর যেন ভর করেছিল সেদিনের সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৬০ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে দেখালেন পথ। শান্তর সেঞ্চুরি আর লিটনের হাফ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ পেল লড়াইয়ের পুঁজি।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। এদিন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

এদিন বাংলাদেশের ইনিংসের হাইলাইটস মূলত শান্ত-লিটনের ব্যাটিং। তার আগে প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়ে বাজে শুরু করে টাইগাররা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইল ও’রুর্কির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সাইফ হাসান(০)। তৃতীয় ওভারে ফিরে প্রথম বলে বোল্ড করেন আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক তানজিদ তামিমকেও। এদিন ৫ বলে মাত্র ১ রান করতে পেরেছেন এই মারকুটে ওপেনার। ৯ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

ওয়ান ডাউনে নেমে ভালোই খেলছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু নবম ওভারে ও’রুর্কির শিকার হন তিনিও। ২৬ বলে ৩ চারে ১৮ রান করে আউট হন সৌম্য। প্রথম পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৬ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে শান্ত-লিটন সাবধানী ব্যাটিংয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। সিঙ্গেল-ডাবলের ওপর ভরসা করে ইনিংস মেরামতে নজর দেন তারা। লিটনই বেশি সাবধানী ছিলেন। শান্ত বাজে বল পেলে বাউন্ডারি আদায় করে নিচ্ছিলেন।

২৫তম ওভারে এসে শতরান পূর্ণ করে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে অর্ধশতক পূর্ণ হয় শান্তর। ৭০ বলে ৪টি চার ও ১টি ছয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি। ধিরে ধিরে হাত খুলতে শুরু করেন লিটনও। ইনিংসের প্রথম ৫৯ বলে কোনো বাউন্ডারিই মারেননি লিটন। লেনক্সকে ৪ মেরে হাত খুলেন তিনি।

শান্ত-লিটনের জুটি স্থায়ী হয় ৩৮ ওভার পর্যন্ত। ৩৯ ওভারের প্রথম বলে লিটনকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন লেনক্স। তার আগে অবশ্য দুজন মিলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েছেন। ১৬০ রানের চেয়ে একমাত্র বড় জুটিটা কার্ডিফের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সাকিব আর মাহমুদউল্লাহ মিলে গড়েছিলেন ২২৪ রানের জুটি।

আউট হওয়ার আগে লিটন ৯১ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ রান করেন।

শান্ত অবশ্য সেঞ্চুরি করেই মাঠ ছেড়েছেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১১৪ বলে। এরপর অবশ্য আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। লেনক্সের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ১১৯ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রান করেন এই বাঁহাতি।

লিটন আর শান্তর বিদায়ের পর বড় স্কোরের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ৭ ওভারে তুলতে পেরেছে মাত্র ৪৪ রান। তাওহীদ হৃদয় ২৯ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ১৮ বলে ২ চারে ২২ রান করে আউট হন।

ও’রুর্কি ৭ ওভারে ৩২ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া লেনক্স ও বেন লিস্টার ২টি করে এবং ডিন ফক্সফোর্ট ১টি উইকেট শিকার করেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ