আজ : শুক্রবার ║ ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : শুক্রবার ║ ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ২৫শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বান্দরবান-৩০০ আসনে ৩০ বছর পর বিএনপির বিপুল জয়

দেশচিন্তা ডেস্ক: প্রায় তিন দশক পর বান্দরবান-৩০০ আসনে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়ে আসনটি নিজেদের দখলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের প্রার্থী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী প্রায় এক লাখ ৪১ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত ও ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী এস এম সুজা উদ্দিন শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মো. আবুল কালাম হাতপাখা প্রতীকে ৪ হাজার ৭১৮ ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু জাফর মো. ওয়ালিউল্লাহ লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৪৩৫ ভোট।
বিএনপি নেতাদের দাবি, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল ও প্রভাবের কারণে আসনটি তাদের দখলে ছিল না। তবে এবারের নির্বাচনে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন বলেই এমন ফলাফল এসেছে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মিটন বলেন, দীর্ঘদিন পর বান্দরবানে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, যার প্রতিফলন ঘটেছে ফলাফলে।
এদিকে একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে বান্দরবানে ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৮ হাজার ৮১৭টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৮৯ হাজার ৩৬৬টি।

বান্দরবান-৩০০ আসনে রয়েছে ৭টি উপজেলা, ২টি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়ন।

মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন; এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ এবং নারী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৭ জন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন ২৫ জন ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৬ হাজার ৬১৪ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। দুর্গম পাহাড়ি এলাকাতেও ছিল বাড়তি নিরাপত্তা।
বিজয়ের পর রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী বলেন, এই জয় পাহাড়ের মানুষের।

তিনি উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতির রাজনীতি এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে জেলার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারেও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ ৩০ বছর পর এ ফলাফল কেবল রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং পাহাড়ি জনপদের মানুষের প্রত্যাশা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন। অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান—এসব ইস্যুতে এখন নতুন প্রতিনিধির দিকে তাকিয়ে আছে বান্দরবানের মানুষ।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ