আজ : সোমবার ║ ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : সোমবার ║ ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ২৭শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

অনিবার্য বিপ্লবের জন্য আবারও রাজপথে নামবে জামায়াত: গাইবান্ধায় শফিকুর রহমান

দেশচিন্তা ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রয়োজনে অনিবার্য বিপ্লবের জন্য আবারও রাজপথে নামবে জামায়াত।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন হত্যার বিচার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, জাতির স্বার্থে প্রয়োজনে অসমাপ্ত অনিবার্য বিপ্লবকে সম্পন্ন করতে একজন কর্মী হিসেবেও যদি আল্লাহ আমাকে কবুল করেন, আমি সাড়া দেব।

তিনি আরও বলেন, বাংলার মাটিতে আর কোনো ফ্যাসিবাদের ঠাঁই হবে না। আপনারা প্রস্তুত থাকুন। যেভাবে ২০২৪ সালে ভাই-বোনেরা রাস্তায় নেমেছিলেন, মা-বোন ও সন্তানদের নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

এর আগে এদিন সকাল ১০টার দিকে সাঘাটার বোনারপাড়া সরকারি কবরস্থানে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন আমির ডা. শফিকুর রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা। এরপরেই তিনি নিহত ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীর বাবার হাবিবুর রহমান এবং জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের বাবা শামসুল হুদা দুদুকে আবেগে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এরপর দুই পরিবারের বাসায় যান এবং স্বজনদের খোঁজখবর নিয়ে তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। পরে তিনি সাঘাটার বোনারপাড়া সরকারি কাজী আজহার আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন হত্যার প্রতিবাদ’ শীর্ষক জনসভায় যোগ দেন।

সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ এবং গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম ও জামায়াতের স্থানীয় নেতারাসহ আশেপাশের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের ‘কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনা ঘটে। পরে সেই ঘটনার জের ধরে ২১ জুন উপজেলার বোনারপাড়ায় শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে পেয়ে তার ওপর চড়াও হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ আরো বেশ কয়েকজন। সেদিন কমিটি নিয়ে ইস্যু তুলে প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন মুকুলসহ তার সঙ্গীরা। পরে শিক্ষক হাবীবুল্লাহর ফোনের ডাকে তার ভাতিজা মোবাশ্বের, সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনসহ অন্যরা এগিয়ে এলে তাদের উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে উপস্থিত লোকজন উভয়পক্ষকে নিবৃত করে তাৎক্ষণিকভাবে দুই দিকে সরিয়ে দেন। এর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই যুবদল নেতা মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সালাউদ্দিন ও সাইফুল্লাহদের ওপর হামলা চালায়। মুকুলের ছোট ভাই পলাশ শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর গলায় শাবল দিয়ে আঘাত করলে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একই সময় সাইফুল্লাহ বারীর বন্ধু সালাউদ্দিনকেও ছুরিকাঘাত করেন প্রতিপক্ষরা। পরে স্বজনরা সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় এবং ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সালাউদ্দিন মারা যান।

পরে সেদিনই ঢাকায় তার প্রথম নামাজে জানাজা শেষে পরদিন সকাল ১০টার দিকে গাইবান্ধার বোনারপাড়ায় দ্বিতীয় জানাজার পর খুনের শিকার শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহর কবরের পাশে দাফন করা হয় সালাউদ্দিনকে। তিনি জামায়াতের বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুব বিভাগের কর্মী ছিলেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ