
দেশচিন্তা ডেস্ক: দেশচিন্তা আয়োজিত “মা সম্মাননা ও আলোচনা সভা” সোমবার (১১ মে) বিকেল ৫টায় ফয়েজ নুর নাহার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে আলোচনা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং গুণীজন সম্মাননা প্রদানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি বর্ণাঢ্য হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশচিন্তার সম্পাদক ও সাংবাদিক ইমরান সোহেল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন ও সংগঠক সজল চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হাবিবুর রহমান, লেখক-সাংবাদিক আবদুল্লাহ মজুমদার, আনোয়ারা হাইলধর স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সংগঠক এনামুল হক, মানবাধিকার কর্মী সাবরিনা আফরোজ, সংগঠক মীর বরকত হোসেন, কবি ও সংগঠক আসিফ ইকবাল, মোজাম্মেল হক চৌধুরী, এইচ এম সোহেল, সংগঠক হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
আবদুল্লাহ ইকবাল তুষারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সূচনায় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিশুদের সৃজনশীলতা ও মায়ের প্রতি ভালোবাসা ফুটে ওঠে। পরে আলোচনা সভা শেষে সমাজে অবদান রাখা গুণীজনদের হাতে “আলোকিত মা সম্মাননা” প্রদান করা হয়।
এ বছর সম্মাননা প্রদান করা হয় ইসলাম খাতুন ও হাজী জাহেদা বেগম চৌধুরীকে। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার এই স্বীকৃতি উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
প্রধান অতিথি সজল চৌধুরী বলেন, মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা ও আত্মনিবেদন মানবসভ্যতার ভিত্তি। একজন মা শুধু পরিবার গড়েন না, বরং একটি প্রজন্মকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার নীরব কারিগর।
বক্তারা বলেন, সমাজে নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিকতার মূল উৎস হলো মায়ের শিক্ষা ও স্নেহ। তাই মায়ের অবদানকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া সময়ের দাবি।
এ সময় মা দিবসের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা হয়, “মা দিবসকে কেবল আবেগ বা আনুষ্ঠানিকতার উৎসব হিসেবে সীমাবদ্ধ করলে এর প্রকৃত মর্যাদা হারিয়ে যায়। মা দিবসের মূল শিক্ষা হলো মাকে সম্মান জানানো মানে ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতার গণ্ডি পেরিয়ে সমাজে ত্যাগ, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও নৈতিক মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করা। মাকে একদিন ফুল দিয়ে নয়, বরং প্রতিদিনের আচরণ, দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধাশীল জীবনাচরণের মধ্য দিয়েই সম্মানিত করা উচিত। কারণ যে সমাজ মায়ের অবদানকে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখে, সেখানে কৃতজ্ঞতা গড়ে ওঠে না—বরং গড়ে ওঠে অবহেলার সংস্কৃতি।”
অনুষ্ঠান শেষে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের আয়োজনকে সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।












