আজ : শুক্রবার ║ ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : শুক্রবার ║ ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ২২শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

হরমুজ দিয়ে দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ অতিক্রম করতে দেবে ইরান!

দেশচিন্তা ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও, তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এর সঙ্গে কিছু শর্ত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌপরিবহন স্বাভাবিক বা যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

ইসলামাবাদে আলোচনার আগে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্র জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির শর্তানুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ১৫টির বেশি জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেবে না তেহরান। প্রতিটি যাতায়াতের জন্য ইরানের অনুমোদন এবং একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে চলতে হবে।

সূত্রটি জানায়, ‘বর্তমান যুদ্ধবিরতির অধীনে প্রতিদিন ১৫টির কম জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। এই চলাচল সম্পূর্ণভাবে ইরানের অনুমোদন এবং নির্দিষ্ট প্রটোকল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। এই নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে আঞ্চলিক পক্ষগুলোকে জানানো হয়েছে। যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় আর ফিরে যাওয়া হবে না।’

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়।

দুই সপ্তাহের মধ্যে অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড়ের দাবি
যুদ্ধবিরতিতে আর্থিক শর্তও যুক্ত করেছে তেহরান। ইরান দাবি জানিয়েছে, বিদেশে অবরুদ্ধ থাকা তাদের সম্পদ দুই সপ্তাহের মধ্যে মুক্ত করতে হবে।

সূত্রটি তাস-কে জানায়, ‘ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী নিশ্চয়তা, যা এই দুই সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তেহরান আরও বলেছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব শর্তে যুদ্ধের সমাপ্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তা না হলে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

সূত্রটি জানায়, ‘যদি আমাদের নির্ধারিত শর্তের ভিত্তিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কোনো প্রস্তাবে যুদ্ধের সমাপ্তি বিধিবদ্ধ না করা হয়, তাহলে আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের (ইসরাইল) বিরুদ্ধে লড়াই পুনরায় শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত, ঠিক যেমনটি আমরা গত ৪০ দিন ধরে করে আসছি।’

আরও পড়ুন: ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি মারা গেছেন

মার্কিন সেনা বৃদ্ধি না করার শর্ত
ইরান আরও দাবি করেছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় যুক্তরাষ্ট্র যেন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি না করে।

একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রসঙ্গে সূত্রটি জানায়, ‘আমরা চুক্তির লিখিত শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছি এবং তা সক্রিয়ভাবে বজায় রাখছি।’ সূত্র: তাস, এনডিটিভি

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ