আজ : বৃহস্পতিবার ║ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : বৃহস্পতিবার ║ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনের মাঠে সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না, আচরণবিধি মানলেও হয়রানির অভিযোগ জামায়াতের

দেশচিন্তা ডেস্ক: নির্বাচনের মাঠে সমতা (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) রক্ষা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, একদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, অন্যদিকে যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন না—তাদের বিরুদ্ধে জরিমানার নোটিশসহ নানা ধরনের হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব অভিযোগ তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল।

বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমাদের দেওয়া অভিযোগের কাগজের স্তূপ পড়ে আছে; কিন্তু দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলীয় প্রধানদের প্রটোকল ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা না গেলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’

তিনি জানান, তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে। অথচ এর আগেই কিছু এলাকায় বিশেষ কিছু দলের প্রার্থীরা অবাধে প্রচার চালাচ্ছেন। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এখনো প্রচারে নামেননি বা দলীয় সভা-সমাবেশ করছেন না। তবু তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘কোথাও কোথাও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জামায়াতের প্রার্থীদের হয়রানি করছেন। আমরা কমিশনকে বলেছি—এটা বন্ধ করতে হবে।’

দলীয় প্রধানদের, বিশেষ করে বড় দুই দলের নেতাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, ‘এর আগেও আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে এনেছিলাম। তখন আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আজও সিইসি আমাদের কথা শুনেছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন।’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনী পরিবেশ ব্যাহত হবে। ‘জনগণ যদি দেখে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় কেউ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে, তাহলে তা ভোটারদের প্রভাবিত করবে,’ বলেন তিনি।

এ সময় সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে— সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, একটি দলের ফ্যামিলি কার্ডের ডামি বিতরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সার্বিকভাবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানায় জামায়াতে ইসলামী।

এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রবাসে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ‘বাহরাইনসহ বিদেশে জামায়াতে ইসলামীর কোনো শাখা নেই। যেখানে দলের কমিটি নেই, সেখানে রাজনৈতিক নেতা থাকার প্রশ্নই ওঠে না। এটি “উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে” চাপানোর অপচেষ্টা,’ বলেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন— সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন সরকার এবং ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ