
দেশচিন্তা ডেস্ক: ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম নিয়ে চলমান আন্দোলনে নারী ও শিশুদের ব্যবহার করে মোবাইল ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন হ্যান্ডসেট উৎপাদকরা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে এনইআইআর সিস্টেম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের তৎপরতার নিন্দাও জানিয়েছে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)।
সংগঠনটির দাবি, দেশের প্রচলিত চারটি আইন ভেঙে অবৈধ ফোনের ব্যবসা করছে মোবাইল ব্যবসায়ীরা। আনঅফিশিয়াল ফোন বিক্রির সঙ্গে ২০ হাজার দোকান বা ব্যবসায়ীর সংখ্যা দাবি করা হলেও প্রকৃত সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি নয়। তাদের জন্য বরং হ্যান্ডসেট উৎপাদকরাই বৈষম্যের শিকার।
এনইআইআর সিস্টেম সচল থাকলে বাজারে মনোপলি হবে না দাবি করেন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে চিপসেটের দাম বাড়ার কারণে সম্প্রতি দেশের বাজারে স্মার্টফোনের দামও বাড়াতে হয়েছে। এর সঙ্গে এনইআইআর সিস্টেম চালুর কোনো সম্পর্ক নেই।
এর আগে গত রোববার (৪ জানুয়ারি) এনইআইআর চালুর প্রতিবাদ ও আটক ব্যবসায়ীদের মুক্তিসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা সকাল থেকে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলন ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর কারওয়ান বাজার। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজারে সড়ক অবরোধ করেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। এনইআইআর চালুর প্রতিবাদ ও বিটিআরসিতে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ও আটকদের মুক্তির দাবিসহ বেশকিছু দাবিতে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন।
এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীরা এ সময় ইট-পাটকেল ছুড়লে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় পরিস্থিতি। একপর্যায়ে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান দিয়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। ব্যবসায়ীরা একটু পর পর কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে, আন্দোলন করার চেষ্টা করলে দফায় দফায় চলতে থাকে সংঘর্ষ।
দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর বিকেলে রাজধানীর মোতালেব প্লাজায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বলেন, এনইআইআর সিস্টেম পুনরায় বিবেচনার অনুরোধ। না হয় ২৫ লাখ ব্যবসায়ী বেকার হবে। এ সময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে বলেও জানান প্রতিনিধিরা। ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হলে আন্দোলন বেগবান হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এ সময় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন বলেন, আজ আটক হওয়া ১১ জন ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিতে হবে। এর আগে ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে, তাদেরও ছাড়তে হবে।
অনুষ্ঠিত বৈঠকে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী যেন ফায়দা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেন ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম। এসময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে আটকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান ডিসি মাসুদ।
এদিকে, বিটিআরসি ভবন পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, এনইআইআর সিস্টেম বন্ধ করবে না সরকার। ছাড় পাবে না বিটিআরসি ভবনে হামলাকারীরাও।









