
দেশচিন্তা ডেস্ক: প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রামের জিইসি ক্যাম্পাসে “মেন্টাল হেলথ ফেস্ট ২০২৬” শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি এবং দেশের স্বনামধন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মনোকার্নো ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড রিসার্চ-এর যৌথ উদ্যোগে উক্ত কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
১০ আগস্ট (সোমবার) দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার এবং রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী এবং পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। “মেন্টাল হেলথ ফেস্ট ২০২৬”-এর প্রতিপাদ্য বিষয়সমূহ—Understand, Connect, Thrive—শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের উচিত নিজের মানসিক অবস্থা বোঝা, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলা এবং ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও মানসিক দৃঢ়তা গঠনে সহায়ক হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার বলেন, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন জাতীয় ঘটনাবলি তরুণ সমাজের মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে; তাই মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, এবং এ ধরনের কর্মসূচি তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় পাশে রয়েছে, এবং এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো খোলামেলা ভাবে উপস্থাপন করতে উৎসাহিত করে। পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলা করলে তা ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে; তাই নিয়মিত কাউন্সেলিং ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা অত্যন্ত প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সাইকোলজিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট, একক কাউন্সেলিং সেশন এবং অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রমের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানোর কৌশল তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।














