আজ : সোমবার ║ ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : সোমবার ║ ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ২৭শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

এসএসসি-সমমানের ফল: ১৫ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে সর্বনিম্ন পাসের হার

দেশচিন্তা ডেস্ক: চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এবার বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২৬ সালের ফলাফলে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে। বোর্ডের ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে এটাই সর্বনিম্ন পাশের হার।

পাশের হার কমে যাওয়ায় এবার বোর্ডে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গত ১৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোনো বছরই পাশের হার ৭৫ শতাংশের নিচে নামেনি। ২০১১ সালে পাশের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ২০১২ সালে ৭৯ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৮৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৯১ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করে।

২০১৬ সালে পাশের হার ছিল ৯০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৮৪ দশমিক ১৩ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ৮৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করে।

২০২১ সালে বোর্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯১ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করে। এরপর ২০২২ সালে পাশের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পড়াশোনা ছেড়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলনমুখী হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব ফলেও পড়েছে।

এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে ১১ হাজার ৮৪৩ জন, ২০২৪ সালে ১০ হাজার ৮২৩ জন, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৫০ জন, ২০২২ সালে ১৮ হাজার ৬৬৪ জন এবং ২০২১ সালে ১২ হাজার ৭৯৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। সেখানে ২০২৬ সালে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৯ হাজার ৩৯৮ জনে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইংরেজি ও গণিতসহ কয়েকটি বিষয়ে পাশের হার কমে যাওয়া এবং পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকার বিদ্যালয়গুলোর আশানুরূপ ফল না হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এবারের পরীক্ষায় তুলনামূলক কড়াকড়িও ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৭৭১ জন শুধু একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ। এক বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়াও এবার সামগ্রিক পাশের হার কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ