
দেশচিন্তা ডেস্ক: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও রপ্তানি সম্প্রসারণ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, এনডিসি। দেশের বিভিন্ন রপ্তানিমুখী সম্ভাবনাময় খাতের ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো)-এর সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে বাক্কো সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম বলেন, “বর্তমানে দেশের বিপিও, ফ্রিল্যান্সিং ও আইটিইএস আউটসোর্সিং খাত থেকে প্রতিবছর প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন, “সঠিক নীতিগত সহায়তা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সহজতর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এ শিল্প আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “বিপিও ও আইটিইএস শিল্প দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (BPO), নলেজ প্রসেস আউটসোর্সিং (KPO), ডিজিটাল কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স (CX), সফটওয়্যারভিত্তিক সেবা (Software-based Services) এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর সেবার বৈশ্বিক চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।”
বিপিও তথা আউটসোর্সিং শিল্পকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বাণিজ্য সচিব বাক্কো সভাপতির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বাক্কো সভাপতি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশের আইটিইএস ও আউটসোর্সিং খাত থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আসছে না। বিভিন্ন বাস্তব কারণের ফলে অনেক বিপিও প্রতিষ্ঠান ও ফ্রিল্যান্সার তাঁদের অর্জিত বৈদেশিক আয় অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে দেশে আনছেন এবং এর একটি বড় অংশ দেশের বাইরে সংরক্ষণ করছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এ খাতের জন্য কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ ও সুবিধা ঘোষণা করেছে। তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফ্রিল্যান্সার আইডির সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা, যাতে ফ্রিল্যান্সারদের অর্জিত বৈদেশিক আয় সহজে ও আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আনা যায়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, আইসিটি বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাক্কো সমন্বিতভাবে কাজ করলে অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বাণিজ্য সচিব এ শিল্পের উন্নয়ন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
বাক্কো আশা প্রকাশ করে যে, এ ধরনের নীতিনির্ধারণী সভায় তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাতের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হলে দেশের বিপিও, আইটিইএস তথা আউটসোর্সিং শিল্প আরও গতিশীল হবে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে এ খাত আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।












