
– নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল
যাদের ঘামে সমৃদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়ন- অর্থনীতি সেইসব প্রবাসীদের সন্মান ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।
দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদের অবদান ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই! দেশের জন্য তথা স্বজনের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য প্রবাসীরা যে অবদান রাখছে তা দেখলে নিজের অজান্তে চোখে জল চলে আসে!
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরে একজন প্রবাসীকে কি একুশে পদক কিংবা স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়েছে?
আমি রাষ্ট্রকে সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি প্রতি বছর একুশে পদকে অন্ততপক্ষে সারা বিশ্ব থেকে ২১জন প্রবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য।
সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইন তথা আফ্রিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিদিন নিজের সুখ-স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য যে সংগ্রাম করে যাচ্ছে সেটাই হচ্ছে জীবন যুদ্ধ!
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত ছাড়া প্রায় প্রতিটা দেশে আমার একাধিকবার যাওয়া হয়েছে! গিয়েছি ইটালী, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, পর্তুগাল, সুইডেন ইউরোপের অনেক দেশ, এছাড়া ব্যাংকক সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া সফরে আমি নিজ চোখে দেখেছি আমার প্রবাসী ভাইদের আনন্দ- আবেগ অনুভূতি! এবং স্বপ্ন ও সম্ভাবনা।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা
প্রখর রোদ, মরুভূমির উত্তপ্ত বাতাস, কঠিন শ্রম আর একাকীত্বের মাঝেও তারা বুকে লালন করেন একটি স্বপ্ন!
“পরিবারটা ভালো থাকুক, দেশটা এগিয়ে যাক”
আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় শক্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স।
যে কারণে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলা হয়!
এক জরিপে দেখা গেছে সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত থেকেই গত এক বছরে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বাংলাদেশে গেছে।
বাংলাদেশি টাকায় (প্রতি ডলার প্রায় ১২০ টাকা হলে ) এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায়:
৮৪ হাজার কোটি থেকে ৯৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি!
দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি , বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, অসংখ্য পরিবারের শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্বপ্ন পূরণের পেছনে রয়েছে এই শ্রমজীবী মানুষগুলোর ঘাম আর ত্যাগ! বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে অনেক উচ্চতায়! কিন্তু রাষ্ট্রকে কখনো দেখলাম না কোন একজন প্রবাসীকে একুশে পদক দিতে কিংবা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করতে! আশা করি এই ব্যাপারে রাষ্ট্র খুব দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কারণ রাষ্ট্রের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিল তিনি দেখেছেন প্রবাসীদের অবদান দেশের জন্য কত?
আমার প্রবাসী ভাইয়েরা
কেউ নির্মাণ শ্রমিক, কেউ ড্রাইভার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ দোকান কর্মচারী, কেউবা ছোট্ট ব্যবসায়ী, কেউ কেউ অনেক বড় ব্যবসায়ী কিন্তু পরিচয় তাদের একটাই, তারাই বাংলাদেশের গর্বিত সন্তান যারা প্রবাসী! প্রবাসীদের ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই তাদের সম্মানের চোখে দেখতে হবে। তাদের সন্তান ও সম্পদের সুরক্ষা দিতে হবে রাষ্ট্রকেই।
ঈদে পরিবারের পাশে থাকতে না পারা, কলিজার টুকরো সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করতে না পারা হতভাগ্য পিতারাই হচ্ছে প্রবাসী!
সন্তানের বড় হয়ে ওঠা দূর থেকে দেখা, অসুস্থ মা-বাবার খবর শুনেও কাছে যেতে না পারার কষ্ট — এসব নীরবে সহ্য করেন প্রবাসীরা ভাইরা!
তবুও তারা ভেঙে পড়েন না! আপন জনের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তাদের সংগ্রাম!
কারণ তাদের কাঁধেই টিকে থাকে হাজারো পরিবারের ভবিষ্যৎ তারা নিজেকে পুড়িয়ে অন্যকে আলোকিত করে। বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের হয়রানির কথা নতুন কিছু নয়! এছাড়া অনেক প্রবাসীর সম্পদের উপর বদ নজর থাকে!
আমরা হয়তো অনেক সময় তাদের কষ্ট দেখি না, কিন্তু সত্য হলো —
প্রবাসীর ঘামে ভেজা শরীরই পৃথিবীর পবিত্রতম দেহ।
প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র এগিয়ে আসবে এটাই প্রত্যাশা আজকের বাংলাদেশের !
—
নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল
সংগঠক ও কলামিস্ট।
সাধারণ সম্পাদক,
বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি
মধ্যপ্রাচ্য থেকে ১৩/০৫/২৬
















