
দেশচিন্তা ডেস্ক: মহান মে দিবসের ১৪০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট এবং রিকশা ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার শাখার উদ্যোগে নগরের পুরাতন বটতলী রেলস্টেশন চত্বরে বিকাল ৪টায় শ্রমিক সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট চট্টগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন কবির। বক্তব্য রাখেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার ইনচার্জ ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক আল কাদেরী জয়, ২৪ নং ওয়ার্ড সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো মারুফ। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক জুবায়ের বীনা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি মিরাজ উদ্দিন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য আহমদ জসিম।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১ মে, ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের রাজপথ শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয়। ৮ ঘন্টা কর্মদিবস ও ন্যায্য মজুরির দাবি নিয়ে ধর্মঘটে শ্রমিকরা হে মার্কেটের সামনে জড়ো হলে পুলিশ গুলি চালিয়ে অসংখ্য শ্রমিককে হত্যা করে। বিতর্কিত বিচারের পর চারজন শ্রমিক নেতাকে (পার্সন, স্পাইস, ফিশার, এঞ্জেল) ফাঁসি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেসে মহামতি ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের প্রস্তাবনুযায়ী সারাবিশ্বে ১মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ ঘটনার ১৪০ বছর অতিক্রম হলেও শ্রমিকদের সেই অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যে শ্রমিকরা রক্তে ঘামে সভ্যতা নির্মাণ করে, সেই শ্রমিকের শ্রম শোষণ করে বুর্জোয়াশ্রেণি তাদের মুনাফার পাহাড় গড়ে তোলে। অথচ আমাদের শ্রমিক ফ্রন্টের দীর্ঘদিনের দাবি জাতীয় নূন্যতম মজুরি কাটামো গঠন ও নূন্যতম মজুরি বর্তমান বাজারদরের সাথে সঙ্গতি রেখে ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা করা, যা এখনো পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। দেশে দেশে বাজার দখল, অস্ত্র বিক্রি ও সম্পদ লুটে নিতে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ইরান, লেবানন, ফিলিস্তিন, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর নানা দেশে যুদ্ধ, গণহত্যা ও আগ্রাসন চালাচ্ছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও জনগণের আকাঙ্খার সাম্যের, মানবিক মর্যাদার ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন অপূরিত রয়ে গেছে। একদিকে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নেই অন্যদিকে আগুনে পুড়ে, ভবন ধসে হাজার হাজার শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। সর্বশেষ ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান এ শত শত শ্রমিক নিহত হয়। কিন্তু শ্রমিকদের মানসম্মত ন্যূনতম মজুরি, কাজের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার আজও নিশ্চিত হয় নি। প্রায় ৬০ লক্ষ ব্যাটারি রিকশা-ইজিবাইক চালকের লাইসেন্স, নীতিমালা না থাকায় হয়রানি ও জুলুমের শিকার হচ্ছে। তাই সুপ্রীম কোর্টের রায়ে বৈধ ঘোষিত ব্যাটারিচালিত যানবাহনে BRTA লাইসেন্স ও নীতিমালা প্রণয়ন সময়ের দাবি। ট্রাফিক হয়রানি, গলির ভেতর গাড়ি জব্দ ও ৩২৫০/= অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধ, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের জন্য স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে। কৃষকের বোরো ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে, কৃষকের হাহাকার বাড়ছে, ফসলের দাম না পেয়ে কৃষক সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে অথচ মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা মুনাফা করে লাভবান হয়।। এরইমধ্যে আমেরিকার সাথে জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দেশের শিল্প, কৃষি, অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। তাই
কাজ-ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শক্তিশালী করা ছাড়া বিকল্প নেই।
শ্রমিক-কৃষক, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায় ও শোষণবঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা নিয়ে এই দিবসে সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের প্রয়োজন। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বটতলী হয়ে নিউমার্কেট মোড় ঘুরে সমাবেশস্থানে এসে শেষ হয়।











