আজ : রবিবার ║ ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : রবিবার ║ ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ২৮শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

জুলাই সনদ থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই: জুনায়েদ সাকি

দেশচিন্তা ডেস্ক: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এই সনদ রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যা জনগণের আন্দোলন ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। তাই এর বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য অপরিহার্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

তিনি বলেন, ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমেই দেশে একদলীয় শাসনের সূত্রপাত ঘটেছিল। সেই অভিসন্ধি থেকেই পরবর্তীতে জনগণের সম্মতি ছাড়া একটি জবরদস্তিমূলক ও ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা চূড়ান্ত রূপ নেয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষাকে উপলব্ধি করে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। বিশেষ করে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য ছাড়া এই ট্রানজিশন সফল হবে না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃতি ও শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের কঠোর সমালোচনা করে সাকি বলেন, শহীদের প্রতিটি সংখ্যা কেবল একটি অংক নয়, বরং একেকটি জীবন ও ইতিহাস।

জুলাই আন্দোলনপ রাজনৈতিক দলগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ জুলাই গণসংহতি আন্দোলন এবং ৬ জুলাই বিএনপি রাজপথে নেমে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দিয়েছিল, যা ইতিহাসের রেকর্ডে থাকা প্রয়োজন। ঐকমত্য কমিশন যদি একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়, তবে তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। জুলাই জাতীয় সনদে যা লিখিত আছে, তা থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই কারণ এটি রক্তে লেখা দলিল।

দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মূলে ‘ক্রনিক ক্যাপিটালিজম’ বা লুটেরা পুঁজিবাদকে দায়ী করে জুনায়েদ সাকি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত পকেট ভারী করা এবং বিদেশে অর্থ পাচারের যে ধারা তৈরি হয়েছে, তা সমাজকে স্থবির করে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদ এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপরই টিকে থাকে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতিই বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষের নাগরিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সমাজের বিভাজন ও ঘৃণার রাজনীতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টরা ঘৃণা উৎপাদন ও বিভাজনের মাধ্যমে টিকে থাকে। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশেও সোশ্যাল মিডিয়া বা বিভিন্ন স্তরে ঘৃণার রাজনীতির পুনরুৎপাদন হচ্ছে, যা উদ্বেগের বিষয়। ঘৃণা ও বিভক্তির রাজনীতি বন্ধ করে জাতীয় পুনর্গঠনের কাজে সবাইকে শামিল হতে হবে। তবেই একটি বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ