আজ : শনিবার ║ ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : শনিবার ║ ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সংসদে মন্ত্রীদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে: জামায়াত আমির

দেশচিন্তা ডেস্ক: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তেল আছে শুধু সংসদে। সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে, অথচ সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।

সংসদীয় কার্যক্রমের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমি সংসদে দাঁড়িয়েও বলেছি, আমরা নবীন সদস্য হলেও রাজনীতির সুস্থ চর্চা করতে চাই। জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার হিসাব আমাদের দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য খুব ভালো কিছু ‘ডেলিভারি’ দেয়া সম্ভব হয়নি।

দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে গোটা সমাজ চলছে ‘গোঁজামিল’ আর ‘টপ-ড্রেসিংয়ের’ মাধ্যমে।

ব্যাংকিং খাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ক্যাশ না থাকলেও খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে। এ সময় তিনি মেধাভিত্তিক সমাজ (মেরিটোক্রেসি) গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “শুনলাম এখানেও নাকি বিসিবির মতো ‘ক্যু’ ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে। কৃষিবিদদের মতো মেধাবী মানুষদের সংগঠনে কেন জোর করে নেতৃত্ব দখলের রাজনীতি থাকবে? এই ‘ব্যাড কালচার’-এর কবর রচনা করতে হবে।”

কৃষি খাতকে দেশের মেরুদণ্ড উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃষির বিপর্যয় ঘটলে কোনো বিদেশি ঋণ বা সহায়তা জাতিকে সোজা হয়ে দাঁড় করাতে পারবে না। জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকদের সেচ কাজ ব্যাহত হওয়াকে তিনি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন।

জ্বালানি সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, জ্বালানি মজুত আছে বলছেন। কিন্তু সাইনবোর্ডে লেখা জ্বালানি নেই। তেল নেই। পরে আবার ধরা পরছে। এদিকে জাতিসংঘ থেকে বলা হচ্ছে যদিও যুদ্ধ থামে তার প্রভাব কয়েক মাস চলবে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে পরামর্শ দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত (বাফার স্টক) গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া সিন্ডিকেট ভেঙে সোলার এনার্জি বা বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘যদি একই সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম আর গায়ের জোরের পথে হাঁটা হয়, তবে আমরা আল্লাহর দেয়া শক্তি দিয়ে সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।’

অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এ টি এম মাহবুব-ই-ইলাহীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ