আজ : শনিবার ║ ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : শনিবার ║ ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

পরীক্ষায় তুমিও ফেল, ৬ মাস পর আমিও ফেল: শিক্ষামন্ত্রী

দেশচিন্তা ডেস্ক: পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস হয় না। নেই হাতে-কলমে শেখার মেশিনারিজ। ল্যাবের যন্ত্রপাতি সব পুরোনো। নেই দক্ষ শিক্ষকও। শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ শুনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘সামনে পরীক্ষা। তাতে তুমিও ফেল, ছয়মাস পর আমিও ফেল। কারও বাঁচার উপায় নেই।’

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী গতানুগতিক বক্তব্য না দিয়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সংকটের কথা শোনেন।

মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী নিহাল উদ্দীন সরকার বলেন, আমাদের ঠিকমতো ক্লাসই হয় না। প্র‍্যাকটিক্যাল কাজে আটকে যায়। ক্লাসে কিছুই বুঝতে পারি না।

ওই শিক্ষার্থীর সমস্যার কথা শুনে তার বিভাগের শিক্ষক মাশফিকুর রহমানকে ডেকে কারণ জানতে চান মন্ত্রী। ওই শিক্ষক জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাবের কাজ চালাতে হচ্ছে মেশিনারিজ বলতে কিছুই নেই। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় পড়ানোর জন্য যেসব সুবিধা দরকার, তার কিছুই নেই। ফলে শিক্ষকরা চাইলেও শেখাতে পারেন না।

আবু জর গিফারি নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অষ্টম সেমিস্টারে আমাদের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কথা। কিন্তু আমাদের সেভাবে পাঠানো হয়। পাঠালেও ভালো প্রতিষ্ঠানে আমাদের নেয়া হয় না। কাউকে ঢাকার প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয় না।

ঢাকার ভালো প্রতিষ্ঠানে না পাঠানোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী রাজশাহী পলিটেকনিকের প্রিন্সিপালের কাছে জানতে চান। কিন্তু প্রিন্সিপাল জানান, ইন্ডাস্ট্রির লোকজন শিক্ষার্থীদের নিতে চায় না।

তখন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে ইন্ড্রাস্ট্রির চুক্তি আছে। ছাত্রদের অবশ্যই নিতে হবে৷ মেশিনারি ব্যবহার করতে দিতেই হবে। কেন দিচ্ছে না তার খোঁজ নিতে হবে। আমরাও খোঁজ নেবো, কথা বলবো।

কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার কাজ করবে জানিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শিক্ষায় যত টাকা লাগে, তা দেবেন। কিন্তু আমি তো নিতে পারছি না। কত নেবো, কীভাবে নেবো, কোথায় খরচ করবো? আমাকে তো প্রকল্প হাতে নিতে হবে। যেখানে যেখানে সমস্যা, সেখানে কাজ করবো। তা সমাধানে প্রকল্প হাতে নেবো। সেজন্য আমরা শিক্ষার্থীদের কথা শুনছি। ওরা কি চায়, সেটা জানার চেষ্টা করছি।

শিক্ষামন্ত্রীকে এক শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যাচ্ছে৷ এ ঝরেপড়া ঠেকাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানান তিনি।

পাশাপাশি ৭ বছর ধরে চাকরি করলেও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন ১৯ জন শিক্ষক। মন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণ করার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ