
দেশচিন্তা ডেস্ক: প্যান্টোমাইম মুভমেন্টের প্রযোজনায় নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের পাঁচালি নাটক ‘প্রাচ্যে’র নির্বাকরূপ (মাইমোড্রামা) মঞ্চস্থ হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যয়া চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারি মিলনায়তনে এ মঞ্চায়নের আয়োজন করা হয়।
বেহুলা-লক্ষিন্দরের বিপরীত কাহিনী ‘প্রাচ্যে’র সয়ফর-নোলকের আখ্যান। বাসর রাতে নোলক সর্প দংশনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ওঝা-বিষবৈধ্য ডেকেও তাকে আর বাঁচানো যায় না। এদিকে সয়ফর সাপের সন্ধানে স্বর্গ-মত্য একাকার করে ফেলে। একসময় সয়ফর সাপের সন্ধান পায় কিন্তু বাধা হয়ে দাড়ায় বুড়ো দাদি। এই সাপ বাস্তুসাপ, ঘরের লক্ষ্মী, বাড়ি পাহাড়া দেয়… তাকে মারতে হয় না। ঋণের দায়ে জর্জরিত সয়ফর জমি বন্ধকের টাকায় বউ ঘরে আনে। জমি আর বউ হারিয়ে এখন তার আশা-আকাঙ্খা আর বেঁচে থাকা সবই দরিদ্রের দুষ্ট চক্রে বন্দী হয়ে পড়ে। আড়াই ঘন্টার নাটকটিকে ৩৫ মিনিটে উপস্থাপন বেশ চ্যালেঞ্জিং। নির্বাকতার মাঝে কয়েকটি দৃশ্যে বর্ণনাত্মক রীতির অনুসরণ করা হয়।
‘প্রাচ্য’ নাটকটির নির্বাকরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন রিজোয়ান রাজন। আবহ সঙ্গীতে শিমুল ইউসুফ, রাজ ঘোষ ও শাকুর শাহরিয়ার, আবহ প্রক্ষেপণে জান্নাতুল পিংকি, আলোক পরিকল্পনায় মো. মুরাদ হাসান, পোশাক পরিকল্পনায় তামিমা সুলতানা ও কোরিওগ্রাফিতে সাজেদা সাজু। অভিনয়ে রাজন, সাজু, দীপান্বিতা চৌধুরী, সায়েম উদ্দিন ও মেজবাহ চৌধুরী।
প্রদর্শনীর পূর্বে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে আসা মূকাভিনয়শিল্পী রিজোয়ান রাজনের সাথে চট্টগ্রামের মূকাভিনয়শিল্পীরা প্রাণবন্ত আড্ডার আয়োজন করে। আড্ডার ফাঁকে রিজোয়ান রাজন দেশ-বিদেশের মূকাভিনয়ের গতি প্রকৃতি ও ভবিষ্যত মূকাভিনয় চর্চা নিয়ে নির্মোহ আলোচনা করেন।
আয়োজনের শুরুতে এই শহরের পরিচিতমুখ সমাজসেবক হাসান মারুফ রুমি শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। দ্বিতীয়া বিশ্বাস গান ও আঁখি আক্তার আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেজবাহ চৌধুরী।


















