আজ : বৃহস্পতিবার ║ ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : বৃহস্পতিবার ║ ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ৩রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

‘আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি’, রাষ্ট্রনিযুক্ত শেখ হাসিনার আইনজীবী

দেশচিন্তা ডেস্ক: জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়ায় কষ্ট অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

আমির হোসেন বলেন, আমার ক্লায়েন্টের (হাসিনা-কামাল) বিরুদ্ধে রায়টা ভিন্নভাবে হলেও হতে পারতো। কিন্তু হয়নি। এটা আমার বিপক্ষে গেছে। এজন্য আমি কষ্ট পাচ্ছি। কারণ আমার পক্ষে এ মামলায় আপিল করার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আত্মসমর্পণ না করবেন কিংবা গ্রেফতার হবেন।

এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এজলাসে ওঠেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। ঠিক দুই মিনিট পর মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়। এরপর ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন বিচারিক প্যানেলের সদস্য মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তার পড়া শেষে শুরু করেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। সবশেষ রায় পড়েন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার।

দুই ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে প্রথমেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ-১ তথা উসকানি, মারণাস্ত্র, ড্রোন, হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশসহ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়। একইসঙ্গে চানখারপুলে ছয় হত্যা ও আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর দায়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ-২ এ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

এছাড়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ-২ বা চানখারপুলে ছয় হত্যা ও আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর দায়ে আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। রাজসাক্ষী হয়ে জবানবন্দি দেয়ায় মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তিনিও একই অপরাধে অপরাধী। তবে স্বেচ্ছায় ও সত্য বলায় তার প্রতি নমনীয় হন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটের পর কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ।

গত ১৩ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন।

শেখ হাসিনার এ মামলায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-জেরা শেষ হয়। আর ৯ কার্যদিনে চলে প্রসিকিউশন-স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক পাল্টা যুক্তিখণ্ডন। ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রের প্রধান আইনকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সমাপনী বক্তব্য এবং চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তিখণ্ডন শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণে সময় দেয়া হয়।

এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ