ধর্মচিন্তা ডেক্স, দেশচিন্তা :
লোক দেখানো ধার্মিকতা বা প্রদর্শনেচ্ছা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি সৎকাজের মূল চেতনাকে বিনষ্ট করে। বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, বরং ইসলামে প্রতিটি নেক আমলের মূল ভিত্তি হলো ইখলাস বা নিভেজাল আন্তরিকতা।
রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছার স্বরূপ
গোপন শিরক: বিশ্বনবী (সা.) লোক দেখানো ইবাদতকে 'রিয়া' বা 'ছোট শিরক' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। উম্মতের জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই সূক্ষ্ম ব্যাধিটি নিয়েই।
আমলের নিষ্ফলতা: লোকমুখে সুনাম কুড়ানো কিংবা সামাজিক সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে করা কোনো ভালো কাজ আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না; বরং তা পুরো আমলকেই ভণ্ডুল করে দেয়।
প্রদর্শনের চরম পরিণতি: কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথমে যাদের হিসাব নিয়ে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে, তাদের মধ্যে এমন লোকও থাকবে যারা সমাজে আলেম, দানবীর বা বীর হিসেবে খ্যাতি অর্জনের জন্য কাজ করেছিল।
অহংকারের সূক্ষ্ম ফাঁদ: রিয়া কেবল প্রকাশ্যে প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি মানুষের হৃদয়ে সূক্ষ্ম অহংকার ও আত্মতৃপ্তি তৈরি করে। এজন্য গোপনে ইবাদত ও দান-সদকার চর্চাকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।
দাওয়াত বনাম নাম কুড়ানো
ধর্ম প্রচার বা 'দাওয়াত'-এর মূল উদ্দেশ্য সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠা করা, মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান জানানো এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা। অন্যদিকে লোক দেখানো ধার্মিকতা হলো কেবল লোকমুখে প্রশংসা কুড়ানো ও নিজেকে ধার্মিক হিসেবে জাহির করার ব্যর্থ প্রয়াস।
তবে সমাজকে ভালো কাজে উৎসাহিত করার জন্য প্রকাশ্যে কোনো সৎকাজ করা (যেমন: প্রকাশ্যে দান) দোষণীয় নয়—যদি ভেতরের নিয়ত পুরোপুরি নিষ্কলঙ্ক থাকে। আমল শুরুর সময় নিয়ত ঠিক থাকলেও কাজের মাঝে বা শেষে প্রশংসার লোভে তা কলঙ্কিত হতে পারে, তাই প্রতিনিয়ত নিজের নিয়ত পরখ করা জরুরি।
একইসঙ্গে, অন্যের বাহ্যিক আচরণ দেখে কাউকে 'লোক দেখানো ধার্মিক' বলে বিচার করাও অনুচিত। কারণ, কার অন্তরে কী নিয়ত লুকিয়ে আছে—তার চূড়ান্ত বিচারক একমাত্র মহান স্রষ্টা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.