দেশচিন্তা ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার মাদুরা দ্বীপের কাছে সাগরে চলন্ত অবস্থায় একটি ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রোববার ২৭১ জন যাত্রী নিয়ে ওই ফেরিটি যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
দেশটির জাতীয় তল্লাশি ও উদ্ধারকারী সংস্থা বাসারনাস বলেছে, পূর্ব জাভার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পর মাদুরা দ্বীপের কাছে ফেরিটিতে আগুন ধরে যায়। পরে ফেরিটির ক্যাপ্টেন অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানান।
ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আইনিউজের প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, লাইফজ্যাকেট পরা বিপুলসংখ্যক মানুষ একটি উদ্ধারকারী নৌকায় আশ্রয় নিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য ফুটেজে দেখা যায়, আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলিতে ছেয়ে যাওয়া ফেরিটির ওপরের অংশ থেকে যাত্রীরা নিচে নেমে আসার চেষ্টা করছেন।
বাসারনাসের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলা হয়েছে, দেশটির স্থানীয় সময় সকাল ০৮ টা ২৪ মিনিটের দিকে সুরাবায়ার তল্লাশি ও উদ্ধার অফিস থেকে তারা ফেরিটিতে আগুন লাগার খবর পায়। ওই সময় বলা হয়, কেএমপি মুতিয়ারা সেন্টোসা-২ নামের যাত্রীবাহী ওই ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
বাসারনাস বলেছে, শিপিং কোম্পানি সকাল ০৬ টা থেকে ০৭ টার মাঝে ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে।
‘‘ফেরিটি প্রায় পুরোটাই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় যাত্রীরা জাহাজের ব্রিজ ও সামনের অংশ আঁকড়ে ধরে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন।’’
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। উদ্ধার কাজ দ্রুত ও নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় চলাচলের জন্য ফেরি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। তবে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ছাড়াই প্রায়ই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে এসব ফেরি। এর ফলে দেশটিতে প্রায়ই এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.