তসলিম খাঁ
উন্নত বিশ্বের ট্রাফিক ব্যবস্থার দিকে তাকালে সহজেই বোঝা যায়, এ ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের দেশে যানজট আজ নিত্যদিনের সমস্যা। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিতভাবে এই সমস্যার সমাধান হয়নি। সড়ক সম্প্রসারণ, ফ্লাইওভার নির্মাণ কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নানা পরিবর্তন সত্ত্বেও নগরবাসী এখনো দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায়নি।
যানজটে আটকে থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অপচয় হচ্ছে জ্বালানি ও অর্থ। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী—সবার জীবনেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অথচ সমস্যাটির গভীরে গিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টা খুব বেশি চোখে পড়ে না।
আমি পেশায় ট্রাফিক বিশেষজ্ঞ নই; সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত একজন মানুষ। তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যাটি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। সেই ভাবনা থেকেই উন্নত বিশ্বের কিছু কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশে প্রয়োগযোগ্য একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনার চিত্র অঙ্কন করেছিলাম। এটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও চিন্তার ফল।
২০২০ সালে চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর মোড়ের তীব্র যানজট নিয়ে আমি ফেসবুকে লিখেছিলাম। একই সঙ্গে স্থানীয় দুটি দৈনিক ও একটি মাসিক ম্যাগাজিনে অঙ্কনচিত্রসহ আমার প্রস্তাবনা প্রকাশিত হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছেও বিষয়টি ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলাম। পরবর্তীকালে মুরাদপুর মোড়ে ইউ-টার্নভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু হয়। বর্তমানে সেখানে আগের তুলনায় যানজট অনেকটাই কমেছে বলে পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ মনে করেন।
এখন একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর ২ নম্বর গেইট মোড়ে (পার্ক মোড়/গোলচত্বর)। প্রতিদিন এই মোড় দিয়ে হাজার হাজার অফিসগামী মানুষ, ব্যাংক কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রী চলাচল করেন। কিন্তু তীব্র যানজটের কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের দাবি, মুরাদপুর মোড়ের মতো পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা ২ নম্বর গেইট মোড়েও চালু করা এখন সময়ের দাবি। যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের যানজট অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস।
আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—এটাই প্রত্যাশা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.