দেশচিন্তা ডেস্ক : চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ তা'লীমুল কুরআন মাদ্রাসায় সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শিক্ষা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রতিবাদে গত ৩০ জুলাই বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম প্রাইভেট মাদ্রাসা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইউছুপ ছানুবী-এর সভাপতিত্বে এবং কাজী মোহাম্মদ আলী হাসান-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর নেজামে ইসলাম পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রব্বানী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর নেজামে ইসলাম পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুর মোহাম্মদ কিবরিয়া এবং আর রিসালাহ ইসলামিক ইনস্টিটিউট-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মাওলানা শাহাদাত হোছাইন। এছাড়াও বিভিন্ন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম, শিক্ষক ও আলেমদের মধ্যে বক্তব্য দেন হাফেজ আবু সাবের, মাওলানা ক্বারী ওমর ফারুক, মাওলানা আ. ন. ম. মাহমুদুল্লাহ, মাওলানা ওসমান কাসেমী, মাওলানা জসীমউদ্দীন, হাফেজ মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজিজী, হাফেজ আনিসুর রহমান, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, হাফেজ নেজাম উদ্দিন, হাফেজ ক্বারী উমাইর, হাফেজ মাওলানা সুলাইমান, মুফতি মাসুদুর রহমান, হাফেজ মাওলানা আনাস উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা কবির আহমদ, জালালাবাদ মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা হোসাইন, মাওলানা ইলিয়াস ও মাহমুদুল হাসানসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত ছাত্র-ছাত্রী ও এতিমখানাকে লক্ষ্য করে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলাই নয়, বরং মানবতা, শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপরও নির্মম আঘাত। তারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের নৃশংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিরীহ শিক্ষার্থীদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, মরহুম হাফেজ তৈয়ব সাহেব (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত জালালাবাদ তা'লীমুল কুরআন মাদ্রাসা ও সেগুনবাগান তা'লীমুল কুরআন মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়ে আছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মরহুমের ইন্তেকালের পর মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কওমী আলেমদের পরামর্শে্যহাফেজ মাওলানা মোস্তাক আহমদ-কে জালালাবাদ তা'লীমুল কুরআন মাদ্রাসার পরিচালক এবং মাওলানা আজহারউদ্দীন-কে সেগুনবাগান তা'লীমুল কুরআন মাদ্রাসার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
বক্তাদের অভিযোগ, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উভয় পরিচালককে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হুমকি, ব্ল্যাকমেইল, চাঁদার দাবি, মিথ্যা অভিযোগ ও মামলার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি জালালাবাদ মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা মোস্তাক আহমদ-কে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়, যদিও তিনি ওই ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। এর কিছুদিন পর জালালাবাদ মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একইভাবে, মাদ্রাসা দখলের প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়ার কারণে সেগুনবাগান মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আজহারউদ্দীন-কেও আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মাওলানা আজহারউদ্দীন এবং হাফেজ মাওলানা মোস্তাক আহমদ-এর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। পাশাপাশি জালালাবাদ মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
পরিশেষে দেশ, জাতি এবং দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.