
আবদুল্লাহ মজুমদার
প্রবল ও টানা বর্ষণে নগরীর অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শ্রেণিকক্ষেও বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নেই। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিরাপদ যাতায়াত নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে নগরীর সিলভার বেলস স্কুল প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ছুটি ঘোষণা করেছে। এটি বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতা ও ঝুঁকির একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন। অথচ এমন অবস্থার মধ্যেই আগামীকাল এইচএসসি পরীক্ষা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের নির্ধারিত পরীক্ষার সূচি বহাল রয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে হাজারো পরীক্ষার্থীর সময়মতো ও নিরাপদে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতা, যানজট ও যোগাযোগ সংকটের কারণে অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে। এতে একদিকে যেমন তাদের মানসিক চাপ বাড়বে, অন্যদিকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রশ্নও সামনে আসবে।
পরীক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা ও সুস্থতা তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রশাসনের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষা পেছানো সম্ভব, কিন্তু একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ক্ষতি কখনোই পূরণ করা যায় না।
তাই বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক জনস্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাই—আগামীকালের এইচএসসি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হোক এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হোক।
মানবিক, দূরদর্শী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই আজ হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকের প্রত্যাশা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.