দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামলেন নেইমার জুনিয়র। তবে তার ফেরার আগেই জয় নিশ্চিত করে ফেলেছিল সেলেসাওরা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোল ও মাতেউস কুনিয়ার এক গোলে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
মায়ামিতে বৃহস্পতিবারের (২৫ জুন) ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ব্রাজিল। সপ্তম মিনিটেই স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় তারা। নিজেদের অর্ধ থেকে বল বের করতে গিয়ে ভুল করেন স্কট ম্যাককেনা। তার পাস ব্লক করেন রায়ান, বল চলে যায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড প্রথম স্পর্শে গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এরপর ২২তম মিনিটে আবারও জালে বল পাঠান ভিনিসিয়ুস। জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে নিচু শটে গোলও করেন তিনি। তবে ভিএআরের পর্যালোচনায় বল দখলের আগে ফাউলের প্রমাণ পাওয়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।প্রথমার্ধে স্কটল্যান্ড কয়েকবার আক্রমণে উঠলেও ব্রাজিলের রক্ষণ ও গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার দৃঢ়তা দেখান। ২৯তম মিনিটে ম্যাককেনার হেড এবং ৩৩তম মিনিটে ফার্গুসনের দূরপাল্লার প্রচেষ্টা থেকে গোল পায়নি স্কটিশরা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাজিল। ডান দিক থেকে গ্যাব্রিয়েলের ভাসানো ক্রস ধরতে গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন অ্যাঙ্গাস গান। কিন্তু তিনি বল মিস করলে কয়েক গজ দূর থেকে সহজ হেডে জালে বল পাঠান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে স্কটল্যান্ড। ৪৯তম মিনিটে কিরান টিয়ার্নির ক্রস থেকে স্কট ম্যাকটমিনের হেড সহজেই ধরে ফেলেন অ্যালিসন। ৫২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের ওয়ান-অন-ওয়ান সুযোগও দারুণভাবে রুখে দেন অ্যাঙ্গাস গান।
তবে ৬০তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নির্ধারণ করে দেয় ব্রাজিল। মাঝমাঠে কেনি ম্যাকলিনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ব্রুনো গিমারায়েস। গোলরক্ষককে সামনে টেনে এনে ডান পাশে থাকা মাতেউস কুনিয়ার দিকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। কুনিয়া নিচু শটে বল জালের ডান কোণে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন।
এরপরও স্কটল্যান্ড কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। ৬৩তম মিনিটে ফার্গুসনের ফ্রি-কিক অ্যালিসন কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। পরের মিনিটেই টিয়ার্নির ক্রস থেকে ম্যাকটমিনের হেডও প্রতিহত করেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক।৭৩তম মিনিটে টিয়ার্নির আরেকটি নিখুঁত ক্রস থেকে সুযোগ পান লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ড। তার প্রচেষ্টা ঠিকমতো না হলেও ফিরতি বলে ম্যাকটমিনের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৭৬তম মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার, যা ছিল জাতীয় দলের হয়ে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন। সবশেষ ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর সেলেসাওদের হয়ে খেলেছিলেন তিনি।
শেষদিকে ভিনিসিয়ুস হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। অন্যদিকে যোগ করা সময়ে ম্যাকটমিনের শট ঠেকিয়ে স্কটল্যান্ডকে সান্ত্বনার গোল থেকেও বঞ্চিত করেন অ্যালিসন।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। তাতে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে উঠেছে তারা। সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে রানার্সআপ হিসেবে পরের পর্বে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.