
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, সাহসী অর্থনৈতিক সংস্কার এবং জাতীয় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে দেশের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, নারী, তরুণ, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, প্রবাসীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাজেট বক্তব্যের সমাপনী অংশে অর্থমন্ত্রী বলেন, মহান জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্য এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও পেশা-নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।
তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ বাংলাদেশকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে, উদ্যোগ ও উদ্ভাবন উৎসাহিত হবে এবং পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্যায়ন করা হবে।
পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ, বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং জনগণের ক্ষমতায়নের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ, আত্মবিশ্বাসী ও আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের শক্তি, সৃজনশীলতা এবং উদ্যোগই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়েই গণমানুষের জীবনমান উন্নয়ন, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং একটি স্বনির্ভর ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অর্জন ও গৌরব যেন দেশের প্রতিটি মানুষের হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই উন্নয়ন ও সংস্কারের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, জনগণের অংশগ্রহণ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের ৫৫তম এই বাজেট বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বা বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.