দেশচিন্তা ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম বলেন, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় সরকারের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। বিদেশী প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের দিকে তারা অগ্রসর হচ্ছে বলে ধারণা দৃশ্যমান হচ্ছে। কোন আধিপত্যবাদ বা ফ্যাসিবাদ কায়েম হোক জনগণ তা চায় না। জনগণ জামায়াতকে ভোট দিয়েছে। এক শ্রেণীর সুশীল বুদ্ধিজীবী ভারতের জালে ফেঁসে গিয়ে ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের বিজয়কে ছিনিয়ে নিয়েছে, এদেশের জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। আগামী নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই।
শনিবার সকাল ৮ টায় নগরীর সিলভার প্যালেস কমিউনিটি হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার উত্তরাঞ্চলের রুকনদের নিয়ে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমীর জননেতা আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রুকন শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, অধ্যাপক নুরুল আমীন চৌধুরী, মহানগরী আমীর পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, ১৯৪১ সালে ৭৫ জন মর্দে মুজাহিদ শপথবদ্ধ হয়েছিল। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আজ লক্ষ লক্ষ দ্বীনের পাগল কর্মীরা শপথবদ্ধ হয়ে সংগঠনকে এপর্যায়ে নিয়ে এসেছে। হাজার হাজার শপথের কর্মী ইসলামের জন্য জানমাল দিয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন। আমরাও হয়তো চলে যাবো। কিন্তু দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ ভীতি জাগরুক রেখে জবাবদিহিতার অনুভূতি নিয়ে জীবন গঠন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ধনপতি ও স্বার্থবাদী কায়েমী শক্তি এ সংগঠনের বিরোধিতা অতীতে করেছিল, বর্তমানেও করছে, ভবিষ্যতেও করবে। সুতরাং অতীতে সংগঠন কোন অপশক্তির পরোয়া করেনি, তেমনি আগামীতেও কোন অপশক্তি সংগঠনকে লক্ষ্য থেকে চুল পরিমাণ বিচ্যুত করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, রুকনদের ইলম চর্চার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। শপথবদ্ধ কর্মীরা শপথের আলোকে জীবনকে গঠন করবে, এটাই প্রত্যাশা। এজন্য নিজের রিপোর্ট নিজেই পর্যালোচনা করে এর পরিবর্তন ঘটানোর জন্য নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোন অবস্থায় কম আমলী লোকের দিকে নিজের মান যাচাই না করে নিজের মানকে উন্নয়ন করার চেষ্টা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রুকন হবে একজন নিরব সংগঠক। পরিকল্পনা নিয়ে ব্যক্তিগঠন ও সংগঠন সম্প্রসারণে রুকনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আর নিজেকে নেতৃত্ব দেয়ার সৎ সাহসিকতা ও হিম্মতের অধিকারী হতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জাফর সাদেক বলেন, পরকাল সকলের জন্য অবধারিত। পরকালের ভয় ভীতি জানিয়ে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা অনেক সুরা নাযিল করেছেন। কুরআনকে বুঝে অধ্যয়ন করলে আমরা বুঝতে পারবো, কুরআনকে বাস্তবায়ন করলে দেশে শান্তি ছাড়া বিকল্প আর কিছুই নেই। পরকালের জবাবদিহিতার অনুভূতি নিয়ে আমাদের লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নুরুল আমীন চৌধুরী বলেন, যোগ্য নেতৃত্বের অভাব পূরণে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে জনগণ আমাদের প্রতি যেভাবে আস্থা রেখেছে, আমরা জানমাল বিসর্জন দিয়ে হলেও এর প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করবো। জনগণের দেয়া গণরায়ের প্রতি সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা আমাদের হৃদয়ে আঘাত করেছে। আমাদের অবস্থান পরিস্কার, গণভোটের রায়কে মূল্যায়ন না করলে সংসদের পামাপাশি রাজপথেও আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখে এ গণদাবি আদায় করবো, ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগরী আমীর বলেন, রাসুল (সা.) ছিলেন মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ। রাসুল (সা.) ও তার সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ, ত্যাগ ও ব্যবহারিক জীবনের আলোকে নিজেদের জীবন গঠন করতে হবে। সৎ, ন্যায়পরায়ণ, সহনশীল ব্যক্তি হিসেবে মানুষের কল্যাণে আত্মনিবেদনের যে শিক্ষা দিয়েছেন,
তা ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীর জীবনে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে রুকনদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের শুধু বক্তব্য ও শ্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং তাদের চারিত্রিক সততা, আমানতদারিতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে সমাজের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। সাহাবায়ে কেরাম দুনিয়ার লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই আদর্শ ধারণ করেই আমাদেরকে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন এগিয়ে নিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা আমীর বলেন, রুকনদের মান অনুযায়ী নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। আমাদের অবহেলা সংগঠনকে যেভাবে নিঃশেষ করে দেয়, তেমনি আমাদের সক্রিয় কাজের মাধ্যমে একটি সফল ও সার্থক সংগঠনে পরিণত করবে, ইনশাআল্লাহ। আজকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুনেছি, নোট করেছি। আগামী দিনের পাথেয় হিসেবে কাজ লাগিয়ে নিজেদের মান ও সংগঠনকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আল্লাহ আমাদের মজবুত ঈমানের বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমাদের এ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।
জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল্লাহ, ড. হেলাল উদ্দীন মুহাম্মদ নোমান, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী মুহাম্মদ জাকারিয়া, এডভোকেট আবু নাছের, সাংগঠনিক সেক্রেটারী মাওলানা নুরুল হোসাইন, অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য নুরুল হক, অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল হক্কানী, ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল মোস্তফা, মাওলানা আরিফুর রশিদ, আ ক ম ফরিদুল আলম সহ প্রমুখ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.