দেশচিন্তা ডেস্ক: প্রায় দেড় যুগ পরসারা দেশে বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হবে বাংলা পরীক্ষা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু যা চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরীক্ষার রুটিন ও নীতিমালা প্রকাশ করেছে। রুটিন অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল বাংলা, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেয়া হবে।
তবে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় আলাদা সময়সূচি রাখা হয়েছে। সেখানে ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত দিয়ে পরীক্ষা শুরু হবে। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের পরীক্ষা ১০০ নম্বরে হবে এবং সময় থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এছাড়া প্রাথমিক বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই দুই বিষয়ের পরীক্ষা ৫০+৫০ মিলিয়ে মোট ১০০ নম্বরে হবে। এ ক্ষেত্রেও সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন। বৃত্তি পেতে হলে প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি কেমন হবে তা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
নির্দেশনা গুলো হলো—
১.পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কেউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
২.পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না।
৩. উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার (ওএমআর) নির্ধারিত স্থানে নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো কিছু লেখা যাবে না।
৪. উত্তরপত্রে অবশ্যই ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর থাকতে হবে। অন্যথায় উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
৫. উত্তরপত্রের ভেতর বা বাইরে পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা, রোল নম্বর বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয়/আপত্তিকর কোনো কিছু লেখা যাবে না।
৬. খসড়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত কাগজ দেয়া হবে না। প্রদত্ত উত্তরপত্রে খসড়ার কাজ করতে হবে এবং তা পরে যথাযথভাবে কেটে দিতে হবে।
৭. প্রদত্ত উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল, নিজ দেহ বা অন্য কোথাও পরীক্ষার্থী কোনো কিছু লিখতে পারবে না।
৮. প্রশ্নপত্র বিতরণের পর এক ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হলের বাইরে যেতে পারবে না।
৯. পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্তব্যরত ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়ে পরীক্ষার হল ত্যাগ করতে হবে।
১০. এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত নিয়মাবলি অনুসরণ করতে হবে।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশে সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা হয়েছিল ২০০৮ সালে। ২০০৯ সাল থেকে ‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী’ (পিইসি) পরীক্ষা শুরু হওয়ায় আলাদা করে এই পরীক্ষাটি বন্ধ হয়ে যায়। মাঝে ২০২২ সালে পরীক্ষামূলকভাবে একবার এই পরীক্ষা নেয়া হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা আবার স্থগিত ছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.