দেশচিন্তা ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শেরপুর-৩ আসনের (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) সাধারণ নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের ভোট হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হন। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসন তিনি ছেড়ে দেওয়ায় এখন সেখানে উপ-নির্বাচন হচ্ছে। আর তফসিল ঘোষণার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত হয়েছিল। সেখানে এখন সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে।
শেরপুর-৩
এ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান।
জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনে একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬ জন, নারী ২ লাখ ৮ হাজার ৩০৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭ জন।
এ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৩২টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৬৯টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ৭৫১টি।
শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান (ইনকোয়ারি) কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করছেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিমে ২০০-এর বেশি সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১১৫০ সদস্য মাঠে কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ ৯ এপ্রিল এ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনের ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে। পুরো জেলায় ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
বগুড়া-৬
বগুড়া-৬ আসনে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) মনোনীত প্রার্থী আল-আমিন তালুকদার।
জানা গেছে, বগুড়া-৬ আসনের ১৫০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নিরাপত্তা জোরদারে ২৫০ জন সেনাসদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ৮ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১০টি টিম এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
শহরের সেউজগাড়ী এলাকার ভোটার মোমেনা খাতুন বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো, আশা করি সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে এই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.