দেশচিন্তা ডেস্ক: জ্বালানি সাশ্রয়ে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করবে। সেখানেই বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাস কীভাবে চলবে- সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান।
সভায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাধারণত প্রতি বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। সেই হিসাবে পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠক আগামী ৯ এপ্রিল।
গত বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। যা আজ রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধেরও সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কিনতে ঋণ প্রদান বন্ধ, জ্বালানি বরাদ্দের ৩০ শতাংশ কমানোসহ আরও কিছু সিদ্ধান্ত হয়।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ, এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী রোববার থেকে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান–সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হবে।
পরের দিন শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়। সেখানে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎসাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকেই হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে সেই সিদ্ধান্তটি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসুক; এটিই চাইছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে যা পাওয়া যায়, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেই প্রস্তাবই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিয়ে যাওয়া হবে। সিদ্ধান্তও সেখানেই হবে।
এর আগে গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সব মহানগরীর স্কুলের ক্লাস অনলাইন ও অফলাইনে দুই মাধ্যমেই নেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, তারা আলোচনা করছেন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোকে উৎসাহিত করার। যেহেতু বিশ্বব্যাপী সংকট (জ্বালানি সংকট), তার মানে বাংলাদেশও। তারা কেউ জানেন না, কতদিন এই সংকট চলবে। সে কারণে তারা দেশের স্কুলব্যবস্থাকে অনলাইন ও সশরীর— এই মিশ্র পদ্ধতিতে আনার কথা ভাবছেন।
তিনি জানান, এরই মধ্যে তারা জরিপ করে দেখেছেন, ৫৫ শতাংশ অংশীজন চাচ্ছেন অনলাইনে যাওয়ার জন্য। কিন্ত পুরোপুরি অনলাইনে গেলে বিষয়টি অসামাজিক হয়ে যাবে কি না, সেটাও ভাবা হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব দেওয়া হবে। সেখানে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। তবে তারা এটা (অনলাইন ও সশরীর ক্লাস) চিন্তা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা ভাবা হচ্ছে বলেও জানিয়েছিলেন এহছানুল হক মিলন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.