দেশচিন্তা ডেস্ক: প্রাথমিক শিক্ষায় বাংলাদেশে নেয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পদক্ষেপ নাইজেরিয়ায় অনুসরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকা ফোরাম আয়োজিত জাতি গঠনে নারী : নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।
ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বলেন, দাদু যখন গত বছরের শুরুর দিকে চিকিৎসার জন্য আমাদের সঙ্গে লন্ডনে ছিলেন, সেখানে হাসপাতালে বিভিন্ন দেশ থেকে নার্স ছিলেন, চিকিৎসক ছিলেন। একজন ছিলেন পশ্চিম নাইজেরিয়ার নার্স। আব্বু-আম্মু একদিন সকাল সকাল হাসপাতালে গিয়েছিল দাদুকে দেখতে। তখন সেই নার্স বলেন, ‘আমি তো আপনার মাকে চিনেছি।’ তখন আব্বু-আম্মু জিজ্ঞাসা করেন, ‘কীভাবে?’ তখন ওই নার্স বলেন, ‘আপনার মা বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী না?’ তখন আব্বু-আম্মু অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কীভাবে জানেন?’ পরে নার্স তখন জানান, উনি (বেগম জিয়া) যে এত কিছু করেছেন বিশেষ করে মেয়েদের জন্য, এগুলো আমাদের সরকার ৩৫-৩০ বছর আগে দেখে বাস্তবায়ন করেছিল।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা আরও বলেন, ওই কারণে ওদের দেশের গ্রামাঞ্চলে লাখ লাখ মেয়ে এখনও শিক্ষা পাচ্ছে। অন্তত প্রাথমিক শিক্ষা।
মেয়েদের আত্মবিশ্বাস তাদের ক্ষমতায়নে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে জানিয়ে তিনি বলেন, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে পারলে নারীরা জিডিপিতে খুব সহজে অবদান রাখতে পারে, যা উন্নত বিশ্বে দেখা যায়।
নিজের মা ডা. জুবাইদা রহমানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মা একজন কার্ডিওলজিস্ট ও একজন গৃহিনী। তিনি একসঙ্গে দুটি জায়গাই সমানভাবে পরিচালনা করছেন।’
বেগম জিয়ার কথা উল্লেখ করে জাইমা রহমান বলেন, ‘আমার দাদি বেগম খালেদা জিয়া একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নারী শিক্ষা এবং নারী স্বাস্থ্যের জন্য তিনি অনেক কাজ করেছেন। দেশে অর্থনীতি এবং জিডিপি বৃদ্ধিতে নারীদের অবদান দৃশ্যমান নয়।’
জাইমা রহমান বলেন, আজ আমরা এখানে যারা উপস্থিত সবাই একরকম নন। আমাদের আদর্শ, অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। তারপরও আমরা একসঙ্গে বসেছি, আলোচনা করছি। কারণ আমরা সবাই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ভাবছি। আর এই ভিন্নতা নিয়েই একসঙ্গে কথা বলছি, একের পর এক শুনছি। এটাই গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য।
তিনি বলেন, ভিন্ন এক অনুভূতি ও আবেগ নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশের এই পলিসি লেভেলে আমার প্রথম বক্তব্য এটা। আমি এমন কেই নই যার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর আছে বা সব সমস্যার সমাধান জানা আছে। তবু আমি বিশ্বাস করি নিজের ছোট্ট জায়গা থেকেও সমাজের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার মধ্যে থাকা উচিত। আজ আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে।
বাংলাদেশের উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে জাইমা রহমান বলেন, জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে একপাশে রেখে বাংলাদেশ বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে অর্তনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নারীদের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় বাধা 'একসেস টু ফাইন্যান্স'। নারী উদ্যোক্তা বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতেও সমস্যা হয়। ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের এই বিষয়টিতে নজর দিতে হবে। নারীরাই অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতিচ্ছবি। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ বের হয়ে যাওয়ার পর নারীরা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বলে জানান তিনি।
সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা তামারা আবেদ বলেন, নারীদেরকে শুধু জনসংখ্যা হিসেবে না দেখে হিউম্যান ক্যাপিটাল হিসেবে দেখতে হবে। নারীদের মধ্য যে হিডেন পোটেনশিয়ালিটি আছে সেটাকে সামনে নিয়ে আসতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.