দেশচিন্তা ডেস্ক: সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জনগণের স্বার্থবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। বৃটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই কর মাষ্টারদা সূর্যসেন যে চট্টগ্রামকে স্বাধীন করেছিলেন, দেশের সেই চট্টগ্রাম বন্দর সরকার বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দিয়ে জাতিকে সাম্রাজ্যবাদের কাছে অধীনস্থ করতে চাইছে- এর বিরুদ্ধে লড়াই করা সূর্যসেনের উত্তরসূরিদের অঙ্গিকার। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সেই লক্ষ্যে স্বৈরতন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাষ্টারদা সূর্য সেনের ৯২ তম ফাঁসি দিবসে এমনই আহবান জানিয়েছেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার ইনচার্জ ও চট্টগ্রাম- ১১ আসনে বাসদ মনোনীত প্রার্থী আল কাদেরী জয়।
আজ বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক বিপ্লবী মাস্টার দা সূর্যসেন এর ৯২ তম ফাঁসি দিবসে জে.এম.সেন হল আবক্ষ ভাস্কর্যে সকাল ৯টায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ, চট্টগ্রাম জেলা শাখার পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
নগরীর জেএমসেন হল সংলগ্ন মাস্টারদা সূর্য সেনের আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণকালে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার ইনচার্জ ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আল কাদেরী জয়, জেলা সদস্য হেলাল উদ্দিন কবির, আকরাম হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা নাজিমুদ্দিন বাপ্পি, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য সুপ্রীতি বড়ুয়া, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি মিরাজ উদ্দিন, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক উম্মে হাবিবা শ্রাবণী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আজ থেকে ৯২ বছর বছর আগে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে মাস্টারদা সূর্যসেন কে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেয়। মাস্টারদাকে হত্যা করলেও বৃটিশরা তার স্বপ্নকে হত্যা করতে পারেনি। বৃটিশ শাসকদের অত্যাচার, শোষণ ও বঞ্চনার নির্মম কষাঘাত থেকে মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে জীবনপণ বাজি রেখে মাস্টারদা সূর্যসেন প্রীতিলতারা যে লড়াইয়ের সূচনা করেছিলেন তা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। স্বদেশপ্রেম আর জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের মাধ্যমে মাস্টারদা সূর্যসেন ইংরেজ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলো । একটি স্বাধীন, মানবিক মর্যাদার ও গণতান্ত্রিক সমাজ, প্রতিষ্ঠা ছিলো এই লড়াইয়ের মূলমন্ত্র। সেই স্বপ্ন বুকে ধারণ করে অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় দেশ স্বাধীন হয়েছিলো ।কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর আজও সেই স্বপ্ন পূরণ হয় নি।
৫৫ বছর ধরে ক্রমাগত বুর্জোয়া শাসকগোষ্ঠীর সীমাহীন দূর্নীতি, লুটপাট, গনবিরোধী কার্যকলাপের মাধ্যমে স্বাধীনতার আকাঙ্খা আজ ধূলিসাৎ। মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার খর্ব করে ধনিক শ্রেণি তাদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে ধনী আরো ধনী, গরীব আরো গরীব হয়েছে। শ্রমিকদের ন্যয্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করতে গেলে পুলিশের গুলিতে লাশ হতে হয়। ফসলের দাম না পেয়ে কৃষক গলায় দড়ি বেঁধে আত্মহত্যা করে । নারীর সম্ভ্রম ও মর্যাদা প্রতিনিয়ত খর্ব হয়ে চলেছে। সর্বশেষ জুলাই'২৪ ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ আশা করেছিলো এ অসামা, বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মানুষের মুক্তি মিলবে। কিন্তু সে আশা এখন আবার নৈরাশ্যে পরিনত হতে চলেছে। অশ্লীলতা, ভোগবাদি অপসংস্কৃতি, মাদকাসক্তি তরুণ যুবকদের লড়াইয়ের শক্তিকে ধ্বংস করছে । তাই এই বৈষম্য, শোষণ, সাম্প্রদায়িকতা ও লুটপাটের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করতে মাস্টারদা সূর্যসেন, বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, ভগত সিং সহ অগ্নিযুগের মহান বিপ্লবীরা আজও এক লড়াইয়ের চেতনা হিসেবে কাজ করছে ।"
সমাবেশে বক্তারা পাঠ্যপুস্তকে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে বিপ্লবীদের ইতিহাস ও মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার আহবান জানায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.