দেশচিন্তা ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীকে জলাতঙ্কমুক্ত করতে সিটি করপোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধানে ১৫ হাজার বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রাম শহরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যবান ও নিরাপদ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যবান নগর গড়তে জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি, কুকুরের কামড় ও জলাতঙ্ক রোগ নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ রয়েছে। এসব সমস্যা মানবিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমাধান করতেই আমরা কুকুর নিধনের পথ পরিহার করে টিকাদানের উদ্যোগ নিয়েছি।’
মেয়র জানান, পরিবেশ ও আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে কুকুর নিধন সম্ভব নয়। এ কারণে টিকাদানের মাধ্যমে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা হচ্ছে। চলতি মাসের নির্ধারিত ছয় দিনের কর্মসূচিতে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১৫ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকার আওতায় আনা হবে।
ডা. শাহাদাত বলেন, কোনো একটি এলাকায় যদি অন্তত ৭০ শতাংশ কুকুর টিকার আওতায় আসে, তবে সেখানে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়। এর ফলে জলাতঙ্ক ভাইরাসের বিস্তার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এটিই সিটি করপোরেশনের মূল লক্ষ্য।
জলাতঙ্ক রোগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, জলাতঙ্ক অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। তবে সব কুকুরের কামড়েই জলাতঙ্ক হয় না। ভাইরাস বহনকারী কুকুরের ক্ষেত্রেই ঝুঁকি থাকে।
তিনি জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, লক্ষ্যহীন দৌড়াদৌড়ি, সবকিছু কামড়ানোর প্রবণতা ও চলাফেরায় অসুবিধার কথা উল্লেখ করেন। এ ধরনের লক্ষণ দেখা গেলে সাধারণ মানুষকে ওই কুকুরের কাছ থেকে দূরে থাকার এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
কুকুরের সঙ্গে মানুষের আচরণ সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেন মেয়র। তিনি বলেন, কুকুরও প্রাণী। তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। খাওয়া, ঘুম কিংবা বাচ্চাদের দুধ পান করানোর সময় কুকুরকে বিরক্ত করা যাবে না। কুকুর দেখলে দৌড়ানো, পাথর নিক্ষেপ বা চোখে চোখ রেখে তাকানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন মেয়র। কোনো কুকুর তেড়ে এলে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে অন্যদিকে তাকানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. শাহাদাত বলেন, জলাতঙ্ক শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে পোষা কুকুর ও বিড়ালকেও নিরাপদ রাখতে হবে। এ বিষয়ে নগরবাসীর সচেতন সহযোগিতা ছাড়া সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন রানা, উপসচিব রাশেদা আক্তার, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদা আক্তার, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী চৌধুরী প্রমুখ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল। মোবাইল : ০১৮১৫-৫৬৩৭৯৪ । কার্যালয়: ৪০ কদম মোবারক মার্কেট, মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। ইমেল: [email protected]
Copyright © 2026 Desh Chinta. All rights reserved.