
দেশচিন্তা ডেস্ক: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বাংলাদেশ এখন পশুসম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশে কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তাই কোরবানির পশুর জন্য বিদেশ বা সীমান্তপথে পাচার হওয়া পশুর ওপর নির্ভরতার কোনো প্রয়োজন নেই। একইসঙ্গে তিনি কোরবানির পশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, চামড়ার গুণগত মান রক্ষা এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে কোরবানি বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কোরবানির পশুর স্বাস্থ্যসেবা, চামড়া সংরক্ষণ, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক পশু কোরবানি দেওয়া হয় এবং এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোটি কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে। কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে তা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। কোরবানির সময় সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানো। কারণ মোটা তাজা গরুর চামড়ার নিচে প্রচুর চর্বি জমে থাকে, যা দক্ষতা ছাড়া ঠিকভাবে আলাদা করা সম্ভব হয় না। সামান্য ভুলেও চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যায় এবং বাজারমূল্য কমে যায়।
আমিন উর রশিদ বলেন, চামড়ার প্রকৃত মান নির্ভর করে পশুর স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার ওপর। কোনো পশু রোগে আক্রান্ত হলে কিংবা শরীরে মাছি বা পোকামাকড়ের আক্রমণ থাকলে তার প্রভাব চামড়ায় পড়ে। পরে ট্যানারিতে প্রক্রিয়াজাত করার সময় সেই ত্রুটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে দেখতে বড় ও ভালো চামড়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখতে পারে না।
মন্ত্রী বলেন, কোরবানির সময় দক্ষ কসাইয়ের সংকট তৈরি হয়। দেশের সব কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার মতো পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই। এ কারণে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যেহেতু কোরবানি ও জবাই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তাই তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে একদিকে চামড়ার মান রক্ষা হবে, অন্যদিকে তারা অতিরিক্ত আয় করার সুযোগও পাবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে কোরবানির চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন মাদরাসায় বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করছে। তবে শুধু লবণ দিলেই হবে না, চামড়ার নিচের চর্বি পরিষ্কার করা, সঠিকভাবে ভাঁজ করা এবং সময়মতো সংরক্ষণ করার বিষয়েও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। একবার প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে সেই শিক্ষার্থীরাই অন্যদের প্রশিক্ষণ দিতে পারবে।
‘বর্তমানে কোরবানির চামড়ার একটি বড় অংশ ভালো মানের হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাওয়া যায় না। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে উন্নত মানের চামড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখা গেলে কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে,’ উল্লেখ করেন তিনি।
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, কোরবানির সময় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস প্রক্রিয়াজাত ও বর্জ্য অপসারণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সচেতনতা জরুরি। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে।










