
দেশচিন্তা ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরী নেতৃবৃন্দের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিগণের একটি দল বুধবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল এনালিস্ট মার্সেল ন্যাগি, লিগ্যাল এনালিস্ট এরিনি গোউনারি প্রমুখ। তারা চলতি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আগমন করেন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য।
বৈঠকে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী শফিউল আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরী মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফরিদা খানম, নগর সহকারী সেক্রেটারি আয়েশা পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদিকা শিরিন জাহান ও উম্মে ফাতেমা।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিগণ দেশের সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশ, রাজনৈতিক দলগুলোর গণসংযোগ কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এ সময় নগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা দেশের আইন-কানুন ও নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের নারী জনশক্তিরাও এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারীরা হামলা, অবমাননা ও শারীরিক হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে।
তিনি আরও জানান, নারীদের নিরাপত্তা দাবী ও দেশব্যাপী তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগামী ৩১ জানুয়ারি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি মহিলা মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতের ৮ জন কর্মী আহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও আইন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
নগর আমীর আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষা, অর্থনীতি ও জনকল্যাণমূলক খাতে আমরা ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতাসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংকট নিরসনেও আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিগণ জামায়াতের নারী নেত্রীদের কাছে তাঁদের গণসংযোগ কার্যক্রম ও জনসাধারণের সাড়া সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে নারী নেত্রীরা জানান, তারা ঘরে ঘরে গিয়ে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছেন। তারা বলেন, আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে জামায়াত প্রার্থী ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছি এবং জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে – এই আশ্বাস দিচ্ছি।
বৈঠকে নগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ ঋণখেলাপীদের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।










